ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কলকাতা: বাঙালি ঐতিহ্য, আধুনিকতার ছোঁয়া এবং ফ্যাশন-ফটোগ্রাফির সৃজনশীল মেলবন্ধনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল নবাগত মডেলদের আত্মপ্রকাশমূলক এক বিশেষ পোর্টফোলিও কর্মশালা। কর্মশালার মূল ভাবনা ছিল—‘বাঙালি বধূ’র চিরন্তন সৌন্দর্যকে আধুনিক সমগ্র লুকের সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করা। পাশাপাশি রিসেপশন লুক নিয়েও করা হয় নানা পরীক্ষামূলক কাজ। নবাগত মডেলদের ভবিষ্যতের পেশাগত পথকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নেন পায়েল দেব, ঐশ্বরিয়া ঘোষ, শ্রতশ্রী রিনি পাল, তানিশা ব্যানার্জী, মানসী সাহা, পলৌমী দত্ত, প্রেরণা দে, সিয়া চক্রবর্তী, সুদীপা রায়, সুস্মিতা ঘোষ, তিতলি রায়, বাসন্তী কর্মকার, বৃষ্টি লেখা, মৌমিতা চ্যাটার্জী এবং পৌলমী ব্যানার্জ। প্রত্যেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র উপস্থিতি, অভিব্যক্তি ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বাঙালি বধূর নানা রূপকে ক্যামেরার সামনে ফুটিয়ে তোলেন। মডেলদের সাজ ও রূপসজ্জায় ছিলেন অপর্ণা দাস, মৌসুমী দত্ত মুখার্জী, তনুশ্রী মণ্ডল, কৃতিকা শ, সুদীপা হুদাতি, প্রিয়াঙ্কা দত্ত মাইতি, প্রিয়াঙ্কা শ, জ্যোতি জয়সওয়াল, রুমি দাস, সোমা ভট্টাচার্য, ইশিকা ঘোড়াই, মৌমিতা দে, চুমকি ঘোষ, মুনমুন পান, প্রিয়া চ্যাটার্জী এবং পাখি চ্যাটার্জী। তাঁদের পরিকল্পিত মেকআপ, চুলের সাজ এবং সামগ্রিক লুক মডেলদের ব্যক্তিত্বকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

পুরো কাজটির ক্যামেরার দায়িত্বে ছিলেন চিত্রগ্রাহক শুভজিৎ নন্দী। তাঁর লেন্সে বাঙালি বধূর ঐতিহ্যবাহী আবেগ যেমন ধরা পড়েছে, তেমনই ধরা পড়েছে সমকালীন ফ্যাশনের আত্মবিশ্বাস। মডেলিং ফটোগ্রাফি সম্পর্কে শুভজিৎ বলেন, “মডেলিং ফটোগ্রাফি শুধু সুন্দর একটি মুখকে ক্যামেরায় বন্দি করা নয়। একজন মডেলের চোখের ভাষা, শরীরী অভিব্যক্তি, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের গল্প বলার ক্ষমতাকে ছবির মধ্যে জীবন্ত করে তোলাই আসল কাজ। এই শ্যুটে আমি প্রত্যেক নবাগত মডেলের নিজস্ব পরিচয়টাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। আমার বিশ্বাস, একটি ভালো পোর্টফোলিও একজন নতুন মডেলের কাছে শুধু ছবি নয়—এটি তাঁর স্বপ্নের প্রথম ভিজিটিং কার্ড।” এই কর্মশালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নবাগতদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। পেশাদার পরিবেশে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো, বিভিন্ন এক্সপ্রেশন দেওয়া, পোশাক ও মেকআপের সঙ্গে নিজের উপস্থিতিকে মানিয়ে নেওয়া এবং পোর্টফোলিওকে ভবিষ্যতের কাজের উপযোগী করে তোলার বিষয়েও তাঁদের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়। আয়োজক স্নেহা চৌধুরি এই উদ্যোগকে শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন শ্যুট হিসেবে দেখতে নারাজ।
তাঁর কথায়, “আমি চেয়েছি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে, যেখানে একজন নতুন মডেল শুধু সাজগোজ করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন না—তিনি নিজের সম্ভাবনাকে আবিষ্কার করবেন। বাঙালি বধূর সৌন্দর্য আমাদের সংস্কৃতির গভীরে রয়েছে, কিন্তু সেটিকে যদি নতুন প্রজন্মের চোখে, আধুনিক রুচিতে এবং আন্তর্জাতিক মানের পোর্টফোলিওর ভাষায় তুলে ধরা যায়, তাহলে সেটিই হতে পারে একেবারে mind-blowing একটি ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা। এই কাজের মাধ্যমে প্রতিটি মডেলের স্বপ্নকে একটু করে বড় মঞ্চের দিকে এগিয়ে দেওয়াই আমার মূল উদ্দেশ্য।” ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এই সংলাপে কখনও শাড়ি, গয়না ও বাঙালি বধূর পরিচিত আবহ সামনে এসেছে, আবার কখনও রিসেপশন লুকের মাধ্যমে উঠে এসেছে নতুন প্রজন্মের ফ্যাশন-সচেতনতা। ফলে পুরো কর্মশালাটি হয়ে উঠেছে একদিকে যেমন পোর্টফোলিও তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, অন্যদিকে তেমনই সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত উদ্যাপন। নবাগত মডেল, মেকআপ আর্টিস্ট, ফটোগ্রাফার এবং আয়োজকের সম্মিলিত প্রয়াসে এই উদ্যোগ প্রমাণ করল—সঠিক সুযোগ, সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভালোবাসা দিয়ে তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই আগামী দিনের বহু প্রতিভার পথচলা শুরু হতে পারে। বাঙালি বধূর চিরন্তন সৌন্দর্যকে আধুনিক ফ্যাশনের ভাষায় নতুন করে বলা সেই গল্পেরই এক উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইল এই কর্মশালা।











