উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,বারুইপুর:- র্যাডিকাল মৌলবাদীরাও থাকতে পারে গণপিটুনির ঘটনায়,পরিচয় জেনে খুন বলে অভিযোগ এবার মুখ্যমন্ত্রীর।বারুইপুরের সূর্যপুরে গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন শনিবার বেলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।নিহতের দাদা বাপী মন্ডলকে সূর্যপুর নতুন আউটপোস্টে সিভিক ভলেন্টিয়ারের চাকরি ও বৃদ্ধ বাবা মায়ের হাতে এককালীন ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বারুইপুরের এই গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় একটি বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী।তাঁর দাবি,গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে,সেটাকে গণ পিটুনি বলব না। একটা পুরোপুরি তাঁর নাম পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এর পিছনে ভোটে রিজেক্টেড যাঁরা হয়েছেন, তাঁদের বড় উস্কানি রয়েছে।র্যাডিকাল মৌলবাদী গ্রুপও থাকতে পারে, আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না।নিহতের বড় দাদাকে ডিজিপি সিভিক ভলান্টিয়রের চাকরি দিয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি যে বাড়িটা ভাঙা হয়েছিল,সেটা জেলাশাসকের উদ্যোগে ২ দিনের মধ্যে মেরামত করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিহতের বাবা মায়ের বার্ধক্য ভাতা, অন্নপূর্ণা দুটোই চালু করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এদিন মুখ্যমন্ত্রী এককালীন ২৫ লক্ষ টাকার চেক পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,এই যুবকের প্রত্যেকটা খুনি আর নির্যাতিতার অত্যাচারীদের কাস্টডি ট্রায়াল হবে। চূড়ান্ত চরম শাস্তি পাবে। এই যুবকের যে খুনি, তাদের সঙ্গে প্যায়ার মহব্বত হতে পারে না।তিনি যাতে এই তদন্তের মাঝে কোন ও নিরীহ মানুষ পুলিশের ধরপাকড়ের শিকার না হন, সেটা ও দেখার দায়িত্ব প্রশাসনকে দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,যদি কোনও নিরীহ লোক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন,সেটাকে সমর্থন করি। কারণ ক্ষোভ দেখানোর গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু কোনও নিরীহ লোক যাতে পুলিশি জেরার মুখ না পড়েন, সেটা পুলিশকর্তাকে নিশ্চিত করতে বলেছি। যদি নিরীহ কেউ ফেঁসে থাকেন, সেটা আইজি নিজে দেখে নেবেন।
তবে আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করতে হবে না।তবে গণপিটুনির ঘটনায় যাঁদেরকে ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যাঁরা চিহ্নিত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে একজনকে বকখালি,ক্যানিং ও দিঘা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত পা বেঁধে যেভাবে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে, কাউকে ছাড়া হবে না।উল্লেখ্য, বারুইপুরের ঘটনায় দুটি দিক রয়েছে। একটি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনা। অপরটি গণপিটুনি। দুটি ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত করছেন তদন্তকারীরা। গণধর্ষণ খুনের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার মধ্যে এক জনকে এনকাউন্টার করা হয়েছে। বাকি গণপিটুনি ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনা প্রথমে গ্রেফতার করা হয়েছিল ২০ জনকে।এখনও জারি রয়েছে ধরপাকড়। এখনও পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।







