ধূপগুড়ি: অবশেষে গিলান্ডি নদীতে তলিয়ে যাওয়া কিশোর সোহম বসাকের দেহ উদ্ধার হল। শনিবার সকালে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তার দেহ উদ্ধার করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্নান করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে স্নানস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে নদীর মধ্যে একটি গাছের গুঁড়িতে একটি দেহ আটকে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা দেহটি নিখোঁজ কিশোর সোহম বসাকের বলে শনাক্ত করেন।

মৃত সোহম বসাক ধূপগুড়ি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যসেন কলোনির বাসিন্দা। সে এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় ধূপগুড়ির নেতাজি পাড়ার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে গোকুলের ঘাটে স্নান করতে গিয়েছিল। স্থানীয়দের বারণ সত্ত্বেও তারা নদীতে নামে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সোহম জলের স্রোতে তলিয়ে যায়। বন্ধুরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করতে না পারায় ধূপগুড়ি থানায় খবর দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল রাত পর্যন্ত তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
শনিবার সকালে দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও গিলান্ডি নদীতে স্নান করতে নেমে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছিল। ফের একই নদীতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের দাবি, বর্ষাকালে নদীতে স্নান বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর নজরদারি, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।







