কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের গত এক যুগের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সাংসদ বলেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে ভারত উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের ফলে কোটি কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন এবং দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। তিনি জানান, কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে বহু মানুষকে দারিদ্রসীমার উপরে তুলে আনা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতায় দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে, যার ফলে করোনা অতিমারির কঠিন সময়েও সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রসঙ্গ তুলে সৌমিত্র খাঁ বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকারি ভর্তুকি ও অনুদান সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কৃষকদের জন্য কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, কিষাণ ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে বহু কৃষক সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেয়েছেন, যা কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ভূয়সী প্রশংসা করে সাংসদ বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মানুষ উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং পশ্চিমবঙ্গেও এর সুফল মিলবে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন সৌমিত্র খাঁ। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী-কে নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও আইনি বিষয়গুলি আদালত এবং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার আওতাধীন। সেই প্রেক্ষিতে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি বিজেপির একজন কর্মী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত ও প্রশাসনের উপরই নির্ভরশীল বলেও জানান।
সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত বিজেপি নেতৃত্ব কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী দিনে সাধারণ মানুষের কাছে সেই বার্তা আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বৈঠক শেষে সাংসদ কেন্দ্র সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রচার ও বাস্তবায়ন নিয়ে দলের কর্মীদের আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।







