নদীর সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে মৃত্যুফাঁদ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রাণহানি, উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী ও প্রশাসন পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের কামালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গৈতানপুর-চরমোনাই অঞ্চলের নদী আজ এক ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীব্র ভাঙনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকদের বিস্তীর্ণ চাষযোগ্য জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু জমি হারানোর ক্ষতির পাশাপাশি আরও একটি বড় বিপদ ক্রমশ ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে—নদীতে ডুবে মৃত্যু। স্থানীয় মানুষের দাবি, গত কয়েক বছরে এই নদীতে নাবালক ও যুবক মিলিয়ে প্রায় ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনাও এলাকাবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
নদীর বালুচর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্জন পরিবেশের আকর্ষণে বহু মানুষ, বিশেষ করে বাইরের এলাকা ও শহরাঞ্চল থেকে তরুণ-তরুণীরা এখানে বেড়াতে আসেন। কিন্তু নদীর তলদেশে সৃষ্টি হওয়া গভীর খাদ, আকস্মিক ভাঙন এবং বিপজ্জনক স্রোত সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই জলে নেমে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হন। গ্রামবাসীরা বারবার সতর্ক করলেও অনেকেই সেই কথা শোনেন না। আজও কয়েকজন যুবক নদীতে নামার চেষ্টা করলে স্থানীয় মানুষ তাদের বিপদের কথা বুঝিয়ে নিরাপদে উপরে তুলে আনেন।
এই পরিস্থিতিতে খণ্ডঘোষ থানার উদ্যোগে নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্কীকরণ ব্যানার ও বোর্ড লাগানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। তবে শুধু ব্যানার টাঙালেই হবে না, প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতনতা। এলাকাবাসীর আবেদন “আপনারা আসুন, আমাদের গ্রামের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী, জঙ্গল ও পরিবেশ উপভোগ করুন। ছবি তুলুন, সময় কাটান, প্রকৃতিকে অনুভব করুন। কিন্তু দয়া করে নদীর জলে নামবেন না। এই নদীর প্রকৃত বিপদ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনার বা আপনার পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে।”

একটু সচেতনতা, একটি জীবন বাঁচাতে পারে। সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন। — গৈতানপুর-চরমোনাই এলাকার গ্রামবাসী ও খণ্ডঘোষ থানার পক্ষ থেকে জনস্বার্থে প্রচারিত।











