দেবনাথ মোদক,খাতড়া (বাঁকুড়া):- বাঁকুড়া জেলায় ট্রাক্টর পিছু বালির দাম ১২০০ টাকা নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসন, বালিখাদ মালিক এবং স্থানীয় বিধায়কদের মধ্যে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং বালির বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, বাঁকুড়ার ইন্দাসের সামড়োঘাট এলাকার একটি বালিখাদ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করেনি। নির্ধারিত ১২০০ টাকা দরে বালি বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে ক্রেতাদের সেই সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল না বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে বালি কিনতে এসে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান আমাদের সাংবাদিক দেবনাথ মোদক। তিনি বালিখাদে উপস্থিত হয়ে ছবি তোলা এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। অভিযোগ, তাঁর উপস্থিতির পরই আচমকা পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যায়। প্রশাসন ও বিধায়কদের নির্ধারিত নির্দেশ মেনে এক ক্রেতার কাছ থেকে ট্রাক্টর পিছু ১২০০ টাকা দরে বালির মূল্য নেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও কেউ ওই নির্ধারিত মূল্যে বালি পাননি। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি টের পেয়েই বালিখাদ কর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে বালি বিক্রির উদ্যোগ দেখায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বালিখাদ পরিচালনা, মূল্য নির্ধারণের বাস্তব প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে তার সুফল সাধারণ ক্রেতারা পাবেন না।
এদিকে বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হোক এবং কোনও অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সামড়োঘাটের এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—প্রশাসনের নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, আর সাধারণ মানুষ আদৌ কি নির্ধারিত মূল্যে বালি পাচ্ছেন? এখন সেই উত্তর খুঁজছে গোটা এলাকা।








