হুগলি জেলার আরামবাগ থানার অন্তর্গত মাধবপুর অঞ্চলের হামিরবাটী জোতরাম প্রাইমারি স্কুলে সম্প্রতি দেখা গেল এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত। একই পরিবারের তিন প্রজন্ম এই স্কুল থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করেছে— যা এলাকাবাসীর কাছে এক গর্বের বিষয়।
এই স্মৃতিবিজড়িত স্কুলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই পরিবারের সদস্য কাকলী দেবী চেয়েছিলেন স্কুলের বর্তমান পড়ুয়াদের জন্য একটি প্রীতি ভোজের আয়োজন করতে। প্রথমে রাতের বেলায় অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা থাকলেও পড়ুয়াদের উপস্থিতির সুবিধার কথা ভেবে তা সম্ভব হয়নি। তাই কাকলী দেবী, তাঁর কন্যা শিউলি, ভাবী জামাতা বরুণ এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় স্কুল প্রাঙ্গণেই দিনের বেলায় আয়োজন করা হয় এই প্রীতি ভোজ।
খাবারের তালিকায় ছিল ভাত, ডাল, সবজি, চিকেন, মিষ্টি সহ আরও নানা পদ। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এই আয়োজনে ভীষণ আনন্দিত হয়ে ওঠে। স্কুলের ইতিহাসে এর আগে কখনও এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি খাওয়াদাওয়ার অনুষ্ঠান নয়— এটি শিক্ষার আরেকটি দিক। শৈশব থেকেই এমন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ শিশুদের মনে সুন্দর চেতনা জাগিয়ে তোলে। বর্তমান সমাজে এই পরিবারের নেওয়া উদ্যোগ সকলের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে— “একা নয়, একসাথে থাকলেই সম্ভব বড় কাজ।”
এই উদ্যোগে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভূমিকাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।
আগামী দিনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন শিউলি এবং বরুণ। তাঁদের দাম্পত্য জীবন আরও সুন্দর ও মঙ্গলময় হোক— এবং ভবিষ্যতেও তাঁরা সমাজের জন্য এভাবেই আরও ভালো কাজ করে চলুন, এই শুভকামনাই রইল।
কৃষক সেতু নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে শিউলি ও বরুণকে জানাই আগাম শুভেচ্ছা।








