বুধবার হুগলির সিঙ্গুর থেকে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ঘাটালের তিনবারের সাংসদ-অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারী (DEV), রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা সবংয়ের বিধায়ক মানস ভুঁইঞা, স্থানীয় বিধায়ক-অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।
একই সঙ্গে ওই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের ২০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)-২’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পে রাজ্যের মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ওই মঞ্চ থেকেই রাজ্যজুড়ে মোট ১০৭৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, যার আর্থিক মূল্য ৫৬৯৪ কোটি টাকা। এছাড়াও ৬১৬টি প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়, যার মোট ব্যয় ২১৮৩ কোটি টাকা।
এই কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকে বুধবার বাংলার বাড়ি প্রকল্প সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বাদুলিয়া দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন ময়দানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি হয় খণ্ডঘোষ ডেভেলপমেন্ট ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে।
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে একাধিক উপভোক্তার হাতে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকার প্রতীকী চেক ও বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা শাসকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রও প্রদান করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৌমেন বিশ্বাস, জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম, খণ্ডঘোষ বিধানসভার বিধায়ক নবীন চন্দ্র বাগ, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক আসিফ আনসারী, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়, খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মীর সফিকুল ইসলাম, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ অনাবিল ইসলাম, বিদ্যুৎ কান্তি মল্লিক, শেখ হাসানুজ্জামান, সগড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবযানী রায়, উপপ্রধান রাধাকান্ত মণ্ডল সহ আরও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক আসিফ আনসারী জানান, খণ্ডঘোষ ব্লক থেকে মোট ২০৭৫ জন উপভোক্তা বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাত ধরে একটি সুসজ্জিত প্রচারমূলক ট্যাবলোর শুভ উদ্বোধনও করা হয়।
জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো ও খুশির আবহ লক্ষ্য করা যায়।








