আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

‘দিদি ইডি-কে হারিয়েছেন, এবার বিজেপির পালা’— কলকাতায় পা দিয়েই আইপ্যাককাণ্ডে ইডি-বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অখিলেশ যাদবের

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

কলকাতায় পা দিয়েই আইপ্যাককাণ্ডকে সামনে রেখে একযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদব। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। শুধু আইপ্যাক ইস্যুই নয়, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়েও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্ত্রী ডিম্পল যাদবকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় এসেছেন এসপি প্রধান। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অখিলেশ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইডি-কে ইতিমধ্যেই পরাস্ত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বিজেপিকেও হারাবেন তিনি। অখিলেশের কথায়, “দিদি ইডি-কে হারিয়েছেন। এবার বিজেপিকেও হারাবেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত”।

আইপ্যাককাণ্ডে উদ্ধার হওয়া পেনড্রাইভ প্রসঙ্গেও বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অখিলেশ যাদব। তাঁর ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য,
“বিজেপি এখনও পেনড্রাইভের যন্ত্রণা ভুলতে পারেনি”। প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে হানা দেয় ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা। তল্লাশি অভিযানের পর আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীকের বাড়ি থেকে বেশ কিছু কাগজপত্র ও ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই তালিকায় একটি পেনড্রাইভও ছিল।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, আইপ্যাকের দফতরে দলের গুরুত্বপূর্ণ ভোট সংক্রান্ত তথ্য ছিল। সেগুলি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করেছিল ইডি। শাসকদলের দাবি, ইডি-কে ব্যবহার করে বিজেপি তৃণমূলের প্রার্থিতালিকা হাতানোর চেষ্টাই করেছিল। সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকেই সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও শানান অখিলেশ যাদব।

এসপি প্রধানের মতে, পশ্চিমবঙ্গ এমন এক রাজ্য, যেখান থেকে সারা বিশ্বে প্রেম ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর মন্তব্য,
“এই রাজ্যে হিংসার রাজনীতি কখনও সফল হবে না। বিজেপি আবারও দিদির কাছে হারবে। ২০২৬ সালে আবার ফুটবে ঘাসফুল”।
এসআইআর ইস্যুতেও নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে একযোগে কাঠগড়ায় তোলেন অখিলেশ। তাঁর অভিযোগ,
“বিজেপির এই এসআইআর প্রক্রিয়া ভোট বাড়ানোর জন্য নয়, ভোট কাটার জন্য। পরিকল্পিত ভাবে বিরোধীদের ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে”।

See also  বর্ধমান হাসপাতালে ঘাটি গেড়েছিল স্বাস্থ্য দপ্তরে চাকরি দেবার প্রতারণা চক্র - গ্রেফতার তিন

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অখিলেশের বক্তব্য, “নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংস্থা। তাদের নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা উচিত। কিন্তু আমরা দেখছি সর্বত্র ভোট কাটার চেষ্টা চলছে। পশ্চিমবঙ্গও তার ব্যতিক্রম নয়। এই রাজনীতিকে দিদি পরাস্ত করেই ছাড়বেন”।

এই রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম বলেন,
“আজ বাংলার রাজনীতিতে বিজেপি বলে কার্যত কিছুই নেই। মানুষ বুঝে গিয়েছে কারা গণতন্ত্র বাঁচাতে লড়ছে আর কারা কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজ্যকে ভয় দেখাতে চাইছে। বাংলার মা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ। বিজেপির সমস্ত ষড়যন্ত্র ভেস্তে যাবে”।

আইপ্যাককাণ্ড, এসআইআর এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার ভূমিকা—সব মিলিয়ে অখিলেশ যাদবের কলকাতা সফর নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি