আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

এসআইআরের নোটিশের আতঙ্কে ভয়াবহ পরিণতি—ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা যুবকের, শোকস্তব্ধ খণ্ডঘোষ

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত নোটিশকে ঘিরে চরম আতঙ্কের অভিযোগে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলেন এক যুবক। মৃতের নাম মিলন রায় (৩৫)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের আমড়াল এলাকায় গভীর শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, নামের পদবী সংক্রান্ত ভুলের জেরে এসআইআরের শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মিলন, যার ফলেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিলন রায়ের পৈতৃক বাড়ি বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস থানা এলাকায় হলেও, তাঁর মা মারা যাওয়ার পর জন্মের পর থেকেই তিনি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের আমড়াল গ্রামে মামার বাড়িতেই বসবাস করতেন। স্থানীয় আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের দাবি, মিলনের বাবার পদবী ছিল ‘বাগদী’, অথচ মিলনের পদবী ‘রায়’। এই পদবী সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণেই এসআইআর-এর আওতায় তাঁর নামে শুনানির নোটিশ আসে বলে অভিযোগ।

জানা যায়, আগামী ২১ জানুয়ারি খণ্ডঘোষ বিডিও অফিসে মিলনের এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি ছিল। সেই নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই তিনি চরম আতঙ্কে ভুগছিলেন। পরিবার-পরিজনের দাবি, নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে এবং বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে—এই আশঙ্কা তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। সেই ভয়ের মধ্যেই ২০ জানুয়ারি মিলন কীটনাশক পান করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয়রা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।

চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যার পর বাড়িতে ফেরেন।
তবে পরিবারের দাবি, শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিক আতঙ্ক তাঁকে ছাড়েনি। এসআইআর-এর নোটিশ নিয়ে তিনি ক্রমাগত উদ্বিগ্ন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার সকাল প্রায় ছ’টা নাগাদ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বাঁকুড়া–হাওড়া ভায়া মশাগ্রাম রেললাইনে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন মিলন রায়—এমনই দাবি পরিবার ও প্রতিবেশীদের।

পরিবারের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিশ এবং তার জেরে তৈরি হওয়া আতঙ্কই মিলনের আত্মহত্যার মূল কারণ। মিলনের অকালমৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। তাঁর চোদ্দ বছরের এক কন্যা সন্তান এবং ছয় বছরের এক পুত্র সন্তান বর্তমানে অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

See also  চন্দননগরে ৪ দিবসীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট

২৪ জানুয়ারি, শনিবার মিলনের মৃতদেহ বাড়িতে ফিরলে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষকৃত্যে ভিড় জমান আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে অসহায় পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন খণ্ডঘোষ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম। তিনি বলেন, পরিবারটির পাশে সবরকমভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

ঘটনাটি ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি