কৃষ্ণ সাহা, পূর্ব বর্ধমান: ছাত্রজীবনের প্রথম বড় যুদ্ধ— মাধ্যমিক পরীক্ষা। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছে দুশ্চিন্তা, ভয় আর অজানা ভবিষ্যতের চিন্তায় যখন পরীক্ষার্থীদের মন ভারাক্রান্ত, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাল পূর্ব বর্ধমান জেলা জয় হিন্দ বাহিনী। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক অনন্য নজির গড়ে তারা প্রমাণ করল— সংগঠন মানে শুধু পরিচয় নয়, সংগঠন মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
মঙ্গলবার স্কুল থেকে অ্যাডমিট কার্ড হাতে নিয়ে বেরোনোর মুহূর্তেই এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। চোখে ছিল টেনশন, মনে ছিল ভয়— কিন্তু স্কুল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা জয় হিন্দ বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক অভ্যর্থনায় মুহূর্তেই বদলে গেল সেই দৃশ্য। অ্যাডমিট কার্ডের সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হল এক্সাম বোর্ড, কলম, স্কেল, জলের বোতল, চকলেট— যেন পরীক্ষার ময়দানে নামার আগে এক পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির বার্তা।
এই মানবিক উদ্যোগের পুরোভাগে ছিলেন জেলা জয় হিন্দ বাহিনীর সভাপতি সাহাবুদ্দিন মন্ডল। তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে একে একে প্রতিটি পরীক্ষার্থীর হাতে উপহার তুলে দেন, শুধু তাই নয়— বড় দাদার মতো পিঠ চাপড়ে বাড়িয়ে দেন সাহস ও আত্মবিশ্বাস। তাঁর কথায় ফুটে ওঠে এক গভীর দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা—
“ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ঠান্ডা মাথায় পরীক্ষা দাও, জয় তোমাদেরই হবে। তোমরাই আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎ।”
এই কয়েকটি বাক্য যেন পরীক্ষার্থীদের মনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। স্কুল গেটেই তৈরি হয় এক অকাল উৎসবের আবহ— যেখানে দুশ্চিন্তার জায়গা নেয় হাসি, ভয়ের জায়গা নেয় আত্মবিশ্বাস। এক পরীক্ষার্থী আবেগঘন কণ্ঠে জানায়,
“অ্যাডমিট কার্ড নিতে এসে খুব নার্ভাস লাগছিল। ভাবিনি এমনভাবে আমাদের সম্মান জানানো হবে। এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি।”
এই উদ্যোগে আপ্লুত অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষও। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিছক সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই জয় হিন্দ বাহিনীর এই কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষানুরাগী মহল। তাঁদের মতে, পরীক্ষার আগে পড়ুয়াদের মানসিক চাপ কমাতে এমন উদ্যোগ একটি পজিটিভ এনার্জি হিসেবে কাজ করে, যা পরীক্ষার ফলাফলেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আজকের দিনে যখন সমাজে নেতিবাচক খবরই বেশি শোনা যায়, ঠিক তখনই জেলা জয় হিন্দ বাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে— ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগরদের পাশে দাঁড়ালেই গড়ে ওঠে সুস্থ সমাজ। নিঃসন্দেহে এই কর্মসূচি শুধু পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়, গোটা সমাজের কাছেই এক অনুপ্রেরণার বার্তা।








