পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘উন্নয়ন’ ও ‘বিকাশ’ শব্দগুলি আদতে শুধুই ডায়লগ এবং হাততালি পাওয়ার কৌশল—বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন নেই বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি নেত্রী তথা আসানসোল বিধানসভার বিধায়ক অগ্রিমিত্রা পল। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গত ১৫ বছরে রাজ্যবাসীর সামনে একের পর এক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরলেও বাস্তবে সেগুলির কোনওটাই পূরণ করেনি। অগ্রিমিত্রা পল বলেন, ২০০৮ সালের সিঙ্গুর আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতি বছর কোনও না কোনও অজুহাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্প ও উন্নয়নের প্রশ্নে রাজ্যবাসীকে বিভ্রান্ত করে চলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে শিল্পায়নের বড় সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী কার্যত শিল্পপতিদের নিরুৎসাহিত করেছেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি রতন টাটার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একসময় টাটা গোষ্ঠীর মতো বড় শিল্পসংস্থাকে রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল, যার খেসারত আজও দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ।
বিজেপি বিধায়কের আরও দাবি, প্রতিবছর বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের আয়োজন করে রাজ্য সরকার উন্নয়নের ছবি দেখানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে শিল্প, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে তার কোনও বাস্তব প্রভাব পড়েনি। তাঁর বক্তব্য, “বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট শুধুই লোক দেখানো। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বারবার বোকা বানানো হয়েছে”।
সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়নের নামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং শিল্পবিমুখ নীতির অভিযোগ তুলে সরব হন বিজেপি নেত্রী অগ্রিমিত্রা পল।
বুধবার পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে একের পর এক ইস্যুতে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেত্রী ও আসানসোল বিধানসভার বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। রাজ্য সরকারের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের দাবিকে তিনি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে কটাক্ষ করেন।
অগ্নিমিত্রা পল বলেন, রাজ্যে ২৮ লক্ষ চাকরি সৃষ্টি হয়েছে এবং ২১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ এসেছে—এই ধরনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত চিত্র হলো রাজ্যের ঘরে ঘরে বেকারত্ব। কাজের অভাবে পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজকে পেটের দায়ে রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে, এমনকি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে চলে যেতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু আইআইটি পাশ করা ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররাই নন, রাজমিস্ত্রি থেকে শুরু করে ধান রোয়ার শ্রমিক—সবাই কাজের সন্ধানে ভিন্রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এটাই তৃণমূল সরকারের তথাকথিত উন্নয়নের বাস্তব চিত্র বলে দাবি করেন তিনি।
বিজেপি নেত্রী বলেন, “আমরা ‘উন্নয়ন হবে, বিকাশ হবে’—এই ধরনের স্লোগান দিই না। আমরা উন্নয়নকে হৃদয় দিয়ে ভাবি”। তাঁর দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে প্রকৃত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেই বাংলার মানুষ সেখানে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পল জানান, এই সফরকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা হতে চলেছে। তাঁর কথায়, সিঙ্গুর থেকে ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় বেশ কয়েকটি নতুন ট্রেনের ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মালদা থেকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন প্রকল্পের শিলান্যাস করা হবে, যা পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হয়ে উঠবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, অসম ও ওড়িশার মতো ছোট রাজ্যগুলি দ্রুত এগিয়ে চলেছে, অথচ পশ্চিমবঙ্গ দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সর্বস্তরে শুধু দুর্নীতি আর দুর্নীতির ছবিই সামনে আসছে। সবশেষে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে আশাবাদী সুরে অগ্নিমিত্রা পল বলেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন এবং তাঁদের আশীর্বাদে ২০২৬ সালে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করবে—এই বিষয়ে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।








