উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, গঙ্গাসাগর: কুম্ভ মেলা না থাকায় ভীড় বাড়ছে গঙ্গাসাগরে।মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা যত গড়ায় ভীড় বাড়তে থাকে গঙ্গাসাগরে।একের পর এক লঞ্চ ভর্তি পূণ্যার্থীরা পৌঁছচ্ছেন কচুবেড়িয়া। একই চিত্র সাগর বাসস্ট্যান্ডে। মানুষের লম্বা লাইন কপিলমুনি মন্দির অভিমুখে। সবে তো মঙ্গলবার। মকর সংক্রান্তির শাহি স্নান ১৪ তারিখ দুপুর থেকে ১৫ তারিখ দুপুর পর্যন্ত।আর তার আগেই পুণ্যার্থীর ঢেউ আছড়ে পড়ছে সাগর তটে।
মঙ্গলবার সন্ধের সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানান বিকাল তিন টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লক্ষ্য পুণ্যার্থী পবিত্র ভূমি গঙ্গাসাগরে এসেছেন। স্নান সেরে ফিরেও যাচ্ছেন।একদিকে কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও মুড়িগঙ্গায় লঞ্চ ও ভেসেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে তৎপর প্রশাসন। মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের জন্য ২১টি জেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৩টি বার্জ, ৪৫টি ভেসেল ও ১২০টি লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুয়াশা মোকাবিলায় অত্যাধুনিক ফগ লাইটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুড়িগঙ্গা নদীতে ইলেকট্রিক টাওয়ারে প্রায় ছশোটি ফগ লাইট, লেজার লাইট-সহ পাঁচ রকমের লাইট লাগানো হয়েছে।
৬৯৮টি ড্রপগেটের মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে ৫৬ কিমি দীর্ঘ ব্যারিকেড, ৪২টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রে, বিশেষ দিক নির্দেশকারী চিহ্ন এবং বিভিন্ন রঙের আলোয় পথগুলিকে আলোকিত করা হয়েছে।হারিয়ে যাওয়া ৮৪ জন তীর্থযাত্রীদের মধ্যে জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ৮০ জন তীর্থযাত্রীকে তাদের পরিজনদের খুঁজে পেতে সমর্থ হয়েছে।মন্ত্রী আর ও জানান, গঙ্গাসাগরমেলায় মুড়িগঙ্গা নদী পারাপারের ক্ষেত্রে এ বারও ইসরোর তৈরি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রত্যেকটি ভেসেল এবং বার্জে একটি করে ইসরোর বিশেষ প্রযুক্তির ডিভাইস লাগানো হয়েছে। অ্যাপের মাধ্যমে সেই ডিভাইসকে কাজে লাগিয়ে ভেসেল ও বার্জের লোকেশন বুঝে সেরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সারা বছরের বাকি সময় শান্ত থাকা এই দ্বীপ মেলা চলাকালীন রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত ‘মিনি-ইন্ডিয়া’-তে, যেখানে নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও অঞ্চলের মানুষ এক অভিন্ন আধ্যাত্মিক লক্ষ্যে একত্রিত হন। সবটাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। সাগর তটে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মহাসাগর আরতির আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকের বোলে, শঙ্খের পবিত্র ধ্বনিতে এবং পুরোহিতদের পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে মহাসাগর আরোতি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, পুলক রায়,স্নেয়াশীষ চক্রবর্তী,মানস রঞ্জন ভুইয়া,সুজিত বসু, বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা,বেচারাম মান্না,সাংসদ বাপি হালদার,জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মিনা সহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পুণ্যার্থীদের সুরক্ষার স্বার্থে ১৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়া দেশের মানুষের কাছে গঙ্গাসাগরকে আরও কাছের করে দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৭০০ কোটি টাকার খরচে মুড়ি গঙ্গা নদীর উপর গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করেছেন। এছাড়া গঙ্গাসাগরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সাগর কন্যারও উদ্বোধন করেছেন তিনি।আর সময় যত এগোচছে ভীড় তত বেড়ে চলেছে।আধুনিক সাজে সজ্জিত গঙ্গা সাগর এখন মিনি ইন্ডিয়ার রুপ নিয়েছে। মঙ্গলবার বেলায় উওর প্রদেশের আগ্রার বাসিন্দা ৫২ বছরের রমেশ চন্দ্র কে এয়ার এম্বুলেন্সে কলকাতার এম আর বাঙুর হাসপাতালে পাঠানো হলো।এই নিয়ে দুদিনে তিন জনকে কলকাতার হাসপাতালে পাঠানো হলো সাগর থেকে।








