এককোটি থেকে মাত্র একটি কম ! তাই নাম ঊনকোটি । দেবী দুর্গার নিরানব্বই লক্ষ নিরানব্বই হাজার নয়শো নিরানব্বইটি স্বামীকে দেখা যায় ত্রিপুরার সবুজ ঘেরা রঘুনন্দন পাহাড়ে।
জায়গাটার নাম ঊনকোটি। শব্দের বাংলা অর্থ এককোটি থেকে কম। ত্রিপুরার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হল শৈব তীর্থ ঊনকোটি। এই অদ্ভুত প্রাচীণ পাথুরে শিল্প ঊনকোটি কৈলাসহরে অবস্থিত।
অবস্থানঃ
রাজধানী আগরতলা থেকে ১৭৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্র। কৈলাসহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে ঊনকোটি।
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে রেলপথে অথবা আকাশপথে চলে যান আগরতলা। সেখানে থাকুন। ঘুরে দেখুন শহরটি। পরে ত্রিপুরা পর্যটন দফতরের বাসে চড়ে চলে যেতে পারেন ঊনকোটির দেশে।
রেলপথে কুমারঘাট অথবা ধর্মনগর নেমে সড়কপথেও যেতে পারেন আপনি।
ঊনকোটি -র ইতিহাসঃ
ঊনকোটি
হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, দেবী পার্বতীর ভক্ত ছিলেন স্থাপত্যকার কালু কামার।কথিত আছে,স্বামী মহাদেবের সঙ্গে কৈলাসে ফিরছিলেন পার্বতী। তখনই তাঁদের সঙ্গে কৈলাসে যাওয়ার জন্য বায়না ধরলেন কালু কামার।
সেই সময়ই কালু কামারের ওপর শর্ত রাখেন্ মহাদেব। এক রাত্রিরের মধ্যে এককোটি দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করতে হবে স্থাপত্যকার কালু কামারকে।
কিন্তু এককোটি থেকে একটি কম অর্থাৎ ঊনকোটি মূর্তি তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি। পাহাড়ের গায়ে খোদিত রয়েছে সেই মূর্তি।
ঊনকোটির মূর্তিগুলি নিয়ে পুরাকালে আরও একটি কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।
দেবতাদের নিয়ে ত্রিপুরা হয়ে বারানসীর উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিলেন দেবাদিদেব শিব। মহাদেবকে নিয়ে দেবতাদের সংখ্যা ছিল এক কোটি।
ঊনকোটি
পুজোর ছুটিতে দেবী দুর্গার এককোটি স্বামীর দেশে চলুন
সন্ধে নামার পর রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা হয় রঘুনন্দন পাহাড়ে।পথ পরিশ্রমে ক্লান্ত দেবতারা গভীর নিদ্রায় অচেতন হলেন।
পরের দিন সূর্যোদয় হওয়ার আগে সবার বারানসীর উদ্দেশে যাত্রা করার কথা, কিন্তু মহাদেব ছাড়া অন্য কোনো দেবতাদের নিদ্রাভঙ্গ হল না।
মহাদেব বিরক্ত হয়ে একাই বারানসীর উদ্দেশে রওনা দিলেন।
কথিত রয়েছে গভীর নিদ্রায় সমাধিস্থ দেবতাদের আকালনিদ্রা আর ভাঙল না। অনন্তকালের জন্য পাথর হয়ে রইলেন তাঁরা।
সেই থেকেই রঘুনন্দন পাহাড়ের নাম হয় ঊনকোটি।
কী রয়েছে ঊনকোটি তে?
পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা মূর্তিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ৩০ ফুটের জটাধারী শিব। এছাড়াও রয়েছে গণেশ, দুর্গা, বিষ্ণু, রাম, রাবণ, হনুমান এবং শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি। ঊনকোটির একটি প্রধান দ্রষ্টব্য হল গণেশকুন্ড।
কুন্ড সংলগ্ন পাথরের দেওয়ালে দক্ষ হাতে খোদাই করা আছে তিনটি গণেশ মূর্তি। এদের ডান পাশে রয়েছে চতুর্ভুজ বিষ্ণু মূর্তি। ঐতিহাসিকদের মতে, ঊনকোটির অভিনব ভাস্কর্য তৈরি হয়েছিল অষ্টম বা নবম শতাব্দীতে।
This website is using a security service to protect itself from online attacks. The action you just performed triggered the security solution. There are several actions that could trigger this block including submitting a certain word or phrase, a SQL command or malformed data.
What can I do to resolve this?
You can email the site owner to let them know you were blocked. Please include what you were doing when this page came up and the Cloudflare Ray ID found at the bottom of this page.