আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

দিল্লিতে অধ্যাপিকা খুনের অভিযোগে বর্ধমান থেকে গ্রেফতার দম্পতি, সম্পত্তি বিবাদেই নৃশংস হত্যার ছক!

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

বর্ধমান :- দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকাকে খুন করার অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহর থেকে গ্রেফতার হলেন রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতি। সম্পত্তিগত বিবাদের জেরে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার দূরে দিল্লিতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ বর্ধমানের বাদামতলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করে। তাদের নাবালক ছেলেকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের একটি বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবাজি কলেজের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের রক্তাক্ত দেহ। প্রথমে তাঁর দিদি দেবারতি পাল ফ্ল্যাটে গিয়ে বোনের নিথর দেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মুখ ঢাকা অবস্থায় তিনজন ব্যক্তি অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিলেন। ফ্ল্যাটের দরজা বা তালা ভাঙার কোনও চিহ্ন না থাকায় তদন্তকারীদের অনুমান ছিল, খুনের ঘটনায় পরিচিত কেউ জড়িত থাকতে পারে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দেবস্মিতা একাই ওই আবাসনের ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। ফলে অপরাধীদের পক্ষে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা তুলনামূলক সহজ হয়েছিল বলে মনে করছে পুলিশ।


সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা দেখতে পান, অভিযুক্তরা একটি গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে আবাসনে প্রবেশ করে। খুনের পর তারা পোশাক পরিবর্তন করে বেরিয়ে আসে এবং ব্যবহৃত পোশাক গাড়ির মধ্যেই ফেলে রেখে এলাকা ত্যাগ করে। ঘটনার পর প্রায় ২০০-রও বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য যাচাই এবং একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বর্ধমান পর্যন্ত পৌঁছে যান।


তদন্তে উঠে আসে, বর্ধমানের একটি বাড়ি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন দেবস্মিতা পাল। ওই বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করতেন রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস। অভিযোগ, বাড়িটি বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন দেবস্মিতা এবং সেই কারণে ভাড়াটেদের বাড়ি খালি করে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু অভিযুক্ত দম্পতি বাড়ি ছাড়তে রাজি ছিলেন না।
পুলিশের দাবি, এই সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই খুনের ছক কষা হয়। দেবস্মিতা একা থাকেন এবং তাঁর দৈনন্দিন চলাফেরা সম্পর্কেও অভিযুক্তদের ধারণা ছিল। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে বর্ধমান থেকে দিল্লি গিয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ, ফ্ল্যাটের ভিতরে ঢুকে প্রথমে মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পরে হাতের শিরা কেটে দেওয়া হয়।

See also  দুস্থদের আটা মোড়ক বদল করে বিক্রির প্রস্তুতি: পূর্ব মেদিনীপুরে ১৪ টন অবৈধ আটা বাজেয়াপ্ত, আটক ২


ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ বর্ধমানের বাদামতলায় দেবস্মিতার দাদুর বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকেই রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাসকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন ও ষড়যন্ত্রের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।


রবিবার অভিযুক্তদের বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে অভিযুক্তদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, নাবালক ছেলের ভূমিকা ছিল কি না এবং হত্যার পরিকল্পনা কতদিন ধরে করা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।


এই ঘটনায় বর্ধমান ও দিল্লি—দুই জায়গাতেই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ থেকে এমন পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসায় এলাকাবাসীর মধ্যেও তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে সকলের।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি