“আমরা বাঙালি বলেই বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেবে? ভাষা, পরিচয় আর জন্মভূমি কি আজ অপরাধ? বাঙালি মানেই সন্দেহ? বাঙালি মানেই বহিষ্কার”?— তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ তথা শিক্ষক নেতা বিশ্বনাথ রায়।
তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান বিজেপি-র বিরুদ্ধে! যারা বাঙালির ভাষা ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষকে বারবার সন্দেহের চোখে দেখানো হচ্ছে। শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলি বলেই আমাদের দেশপ্রেম প্রমাণ করতে হবে? এটা কোন সংবিধানের কথা”?
বিশ্বনাথ রায় আরও বলেন, “যারা আজ বাঙালিকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে অপমান করতে চাইছে, তারা বাংলার ইতিহাস জানে না, সংস্কৃতি জানে না। এই মাটি রবীন্দ্রনাথ-নজরুল-সুভাষের এই বাংলাকে ছোট করার দুঃসাহস যারা দেখাচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক জবাব দেবে মানুষই”।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “পরিচয় নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি বাংলায় চলবে না। বাংলার মানুষ মাথা নত করতে জানে না। আমরা গর্বিত বাঙালি, ভারতীয় সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিক। আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস কারও নেই”।
এদিন তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাকে অপমান করার চেষ্টা যত বাড়বে, প্রতিবাদ তত জোরালো হবে। রাস্তায়, আন্দোলনে, গণতান্ত্রিক মঞ্চে—সব জায়গায় বাংলার মানুষ জবাব দেবে”।
বিশ্বনাথ রায়ের এই বক্তব্য ঘিরে জেলায় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট সাড়া পড়েছে। তাঁর আগুনঝরা বক্তব্য-কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।








