আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষায় ২০২৬-২৭-এ ভর্তি নিয়ে জট, ইউজিসির অনুমতি মেলেনি এসএফআই

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান, ১৪আগষ্ট ঃ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। ওই শিক্ষাবর্ষে দূরশিক্ষা বিভাগের ভর্তি প্রক্রিয়ার অনুমতি ইউজিসি খারিজ করেছে বলে দাবি করল এসএফআই। শুক্রবার সংগঠনের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির তরফে প্রকাশিত এক প্রেস বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়েছে। যদিও ইউজিসির তরফে এ বিষয়ে পৃথক কোনও বক্তব্যের কথা ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি। এসএফআইয়ের দাবি, দূরশিক্ষা বিভাগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি চালুর ক্ষেত্রে ইউজিসির নির্ধারিত কয়েকটি শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন ছিল।

তার মধ্যে ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের ন্যূনতম ৩.০১ স্কোর এবং ২০২৪ অথবা ২০২৫ সালের কোনও একটি র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ১০০-র মধ্যে থাকার শর্ত রয়েছে বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। তাদের দাবি, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান স্কোর ২.৯৯ এবং ওই সময়ের র‌্যাঙ্কিংয়ের শর্তও পূরণ হয়নি। ফলে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি মেলেনি। তবে ইউজিসির ওয়েবসাইটে থাকা দূরশিক্ষা সংক্রান্ত তালিকায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দূরশিক্ষার কয়েকটি পাঠ্যক্রমের স্বীকৃতির তথ্য রয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের অনুমতি খারিজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্দিষ্ট আদেশের কপি প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে বিষয়টি এসএফআইয়ের দাবির ভিত্তিতেই দেখা হচ্ছে।


দূরশিক্ষা বিভাগকে ঘিরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্য এর আগেও টানাপড়েন হয়েছে। এসএফআইয়ের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার পরে তাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলেই ২০২২ সালে ফের দূরশিক্ষায় ভর্তি চালু হয়েছিল। সংগঠনের বক্তব্য, বর্তমানে ফের ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সমস্যায় পড়বেন বহু পড়ুয়া। বিশেষত নিয়মিত পাঠ্যক্রমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় এমন বহু পড়ুয়ার উচ্চশিক্ষার অন্যতম ভরসা দূরশিক্ষা। সংগঠনের দাবি, আর্থিক বা পারিবারিক নানা কারণে নিয়মিত পাঠ্যক্রমে ভর্তি হতে না পারা পড়ুয়ারা দূরশিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। ফলে এই বিভাগের ভর্তি বন্ধ হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে তাঁদের উপর।

See also  বিরোধীরা তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে যখন শুর চড়াচ্ছেন সেই সময়ে নেত্রীকে নিয়ে পি- এইচডি সম্পূর্ণ করলেন চাষির ছেলে

এসএফআই আরও অভিযোগ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অকার্যকারিতার কারণে দূরশিক্ষা বিভাগের পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অবনতি হয়েছে। তার প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মানোন্নয়ন এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও পড়ছে বলে সংগঠনের দাবি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। এসএফআইয়ের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক উদয়সী রায় চৌধুরী এবং সভাপতি প্রবীর ভৌমিক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, দূরশিক্ষা বিভাগকে ফের সচল করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়াদের স্বার্থে ভর্তি প্রক্রিয়া যাতে আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ১৪ বছর ধরে এই পেশায় আছি