রাজ্যের শাসকদল All India Trinamool Congress আসন্ন রাজনৈতিক পর্বকে সামনে রেখে সংগঠন পুনর্গঠন ও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছে। দলীয় অন্দরে শুরু হয়েছে বিস্তৃত পর্যালোচনা। জেলা থেকে ব্লক এবং বুথ স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা—এবার প্রার্থী নির্বাচনে অগ্রাধিকার পাবে কর্মক্ষমতা, জনসংযোগ ও গ্রহণযোগ্যতা; শুধুমাত্র পদাধিকার নয়। পুরোনো মুখের পরিবর্তে নতুন মুখের ভাবনা দলের।
কর্মদক্ষতার রিপোর্ট কার্ড দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক সূচক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরিমাণ সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে ভূমিকা দলের কর্মসূচিতে উপস্থিতি ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা বিতর্ক বা গোষ্ঠী কোন্দলে সংশ্লিষ্টতা আছে কি না এই সব তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি হচ্ছে একটি ‘পারফরম্যান্স রিপোর্ট কার্ড’। নেতৃত্বের মতে, যাঁরা নিয়মিতভাবে মানুষের পাশে থেকেছেন এবং সাংগঠনিকভাবে কার্যকর ভূমিকা নিয়েছেন, তাঁরাই অগ্রাধিকার পাবেন। তবে পুরোনো মুখ অনেকাংশেই বাদ পড়ছে বলেও বিশ্লেষণ করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ।
নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার কৌশল দলীয় পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন একই মুখকে প্রাধান্য দিলে সংগঠনে স্থবিরতা আসতে পারে। সেই কারণেই এবার তুলনামূলকভাবে তরুণ ও নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহিলা ও যুব নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ, নতুন প্রার্থীদের সামনে এনে একদিকে যেমন ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’ বা দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রভাব কমানো সম্ভব, তেমনই সংগঠনে নতুন উদ্যম সৃষ্টি করা যায়।
জেলা স্তরে নজরদারি জেলা পর্যায়ে একাধিক বৈঠক ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বুথভিত্তিক সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে সক্রিয় কমিটি গঠন ও তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দলীয় নেতৃত্বের বার্তা স্পষ্ট—যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসদাচরণ বা জনবিরোধী মনোভাবের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এখন বড় মাপকাঠি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদল হিসেবে জনমত ধরে রাখা এবং বিরোধীদের মোকাবিলায় সাংগঠনিক দৃঢ়তা বজায় রাখা—এই দুই লক্ষ্যেই কৌশলগত রদবদল করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দল একাধিক বার্তা দিতে চাইছে— সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। নিষ্ক্রিয়তা বা বিতর্কে জড়িতদের জায়গা সংকুচিত হবে।
কর্মীদের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে, যদি তাঁরা মাঠে সক্রিয় থাকেন। সব মিলিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন মুখকে প্রাধান্য এবং সংগঠনকে আরও সঙ্ঘবদ্ধ করার এই প্রক্রিয়া রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এখন নজর থাকবে, চূড়ান্ত তালিকায় কতটা প্রতিফলিত হয় এই পরিবর্তনের







