মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন্ন দিল্লি সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতৃত্বের “ঘুম ছুটেছে” বলেই মন্তব্য করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম। তাঁর দাবি, দিল্লিতে গিয়ে এসআইআর ইস্যুতে যেমন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই বাংলার প্রাপ্য বঞ্চনার বিষয়েও জোরালোভাবে সরব হবেন তৃণমূল নেত্রী।
বুধবার এক প্রতিক্রিয়ায় অপার্থিব ইসলাম বলেন, “আমাদের নেত্রী তথা বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাচ্ছেন—এই খবরেই বিজেপি নেতৃত্ব তটস্থ হয়ে পড়েছে। কারণ উনি শুধু বাংলার নেত্রী নন, আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে তাঁকে গোটা দেশের মানুষ চেনেন, বোঝেন”।
তিনি আরও বলেন, “এসআইআর-এর নামে যেভাবে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে দিল্লিতে গিয়ে আমাদের নেত্রী দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ জানাবেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রের বঞ্চনার শিকার বাংলা—এই বিষয়টিও জাতীয় স্তরে তুলে ধরবেন”।
কেন্দ্রের শাসক দলকে নিশানা করে অপার্থিব ইসলাম অভিযোগ করেন, “বিজেপি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কখনও বিধায়ক কেনাবেচা করে ক্ষমতায় এসেছে, আবার কখনও প্রাপ্য আর্থিক বরাদ্দ আটকে রেখে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। কোথাও আবার এসআইআর-এর মতো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে জয়ের পথ তৈরি করেছে। অর্থাৎ ব্যাকডোর দিয়ে ক্ষমতা দখলই বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি”।
তিনি দাবি করেন, “বাংলাতেও একই কৌশল প্রয়োগ করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বাংলার অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই চক্রান্ত রুখে দিয়েছেন এবং আজও তা প্রতিহত করে চলেছেন। তাই তাঁর দিল্লি যাত্রা বিজেপির কাছে স্বস্তির নয়, বরং আতঙ্কের”।
অপার্থিব ইসলামের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দিল্লি সফর শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইকে জাতীয় স্তরে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যেমন বাড়ছে, তেমনই এসআইআর ও কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।








