রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরলেন বেরুগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। বুধবার বেরুগ্রাম অঞ্চলের বোয়াইচন্ডি দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর বোয়াইচন্ডি দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি শিবরামবাটি গ্রামে পৌঁছে শিব পুজোয় অংশগ্রহণ করে। শিবমন্দিরে পুজো দেওয়ার পর উপস্থিত সকলে পুনসুর গ্রামে পৌঁছে ‘পাড়ার সংলাপ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম (ফাগুন), জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়, খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা শিক্ষক নেতা অনাবিল ইসলাম, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ বিদ্যুৎকান্তি মল্লিক, সগড়াই অঞ্চল সভাপতি রাধাকান্ত মণ্ডল, বেরুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পীযুষকান্তি সাহা, প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অসিত বাগদি এবং বেরুগ্রাম অঞ্চল সভাপতি সাহাদ আলী ওরফে লকাই।
পাড়ার সংলাপে বক্তারা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প, উন্নয়নমূলক কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। পুনসুর গ্রামে কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সকলে সাধনপুর গ্রামে পৌঁছান। সেখানেও পাড়ার সংলাপ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা।
সার্বিকভাবে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানান তৃণমূল নেতৃত্ব। পাড়ার সংলাপ কর্মসূচিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজের বিস্তারিত তুলে ধরার পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ অপার্থিব ইসলাম। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার মানুষের স্বার্থে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
অপার্থিব ইসলাম অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলার উন্নয়নের কাজে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রের বঞ্চনা, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আটকে রাখা, রাজ্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার—এই সব কিছুর মাধ্যমে বিজেপি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে রাজনীতি করছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনা সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, পাড়ার সংলাপের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে তাদের কথা শুনছে এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং রাজ্য সরকারের উন্নয়নের সঠিক তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা। বক্তৃতার শেষে তিনি কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী দিনে মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
পাড়ার সংলাপ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষক নেতা অনাবিল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী রাজধর্ম পালন করছেন না। অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নীতির ফলে বারবার বাংলার মানুষ আর্থিক ও সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অনাবিল ইসলামের বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্যের প্রাপ্য ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অর্থ আটকে রেখে সাধারণ মানুষের স্বার্থে আঘাত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং রাজ্যের মানুষের প্রতি চরম অবিচার। পাড়ার সংলাপের মঞ্চ থেকে তিনি এই অবস্থার তীব্র ধিক্কার জানান এবং রাজ্যের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।








