আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

আবেগে ভর করে ইতিহাসের পুনর্জাগরণ

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

তোড়কোণায় দানবীর স্যার রাসবিহারী ঘোষের ভগ্ন কাছারি বাড়ি সংস্কারের পথে পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের কৈয়ড় অঞ্চলের তোড়কোণায় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা এক টুকরো ইতিহাস আজ যেন নতুন করে কথা বলতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন অবহেলা আর অযত্নে পড়ে থাকা স্বাধীনতা সংগ্রামী ও দানবীর স্যার রাসবিহারী ঘোষের ঐতিহাসিক কাছারি বাড়ি অবশেষে সংস্কারের পথে। সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে প্রাথমিক সার্ভে শুরু করল রাজ্যের হেরিটেজ বিভাগ, বর্ধমান ট্যুরিজম বিভাগের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।

সকালে কাছারি বাড়ি চত্বরে উপস্থিত হয়ে হেরিটেজ ও ট্যুরিজম বিভাগের আধিকারিকরা ভগ্নপ্রায় স্থাপত্যের খুঁটিনাটি পরীক্ষা করেন। খসে পড়া ইটের দেওয়াল, ভাঙা খিলান, সময়ের ক্ষয়ে ক্ষতবিক্ষত কাঠামো—সবকিছুই ক্যামেরা, পরিমাপ যন্ত্র ও নথিপত্রের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয়। একসময়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র আজ ধুলো-মাটিতে ঢাকা থাকলেও, প্রতিটি ইটের ফাঁকে আজও লুকিয়ে রয়েছে গৌরবময় ইতিহাসের স্মৃতি। এই খবরে আবেগে আপ্লুত গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা মলয় ঘোষাল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ছিলাম। চোখের সামনে আমাদের প্রাণপ্রিয় কাছারি বাড়িটা ভেঙে যেতে দেখেছি, কিছুই করতে পারিনি। আজ মনে হচ্ছে আবার সে নতুন রূপ পাবে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

গ্রামবাসীদের চোখে এখন শুধু আশা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যে ইতিহাস শুধুই গল্পে শুনেছে তারা, সেই ইতিহাস এবার সংরক্ষিত রূপে ফিরে আসবে—এই বিশ্বাসেই মুখে ফুটেছে হাসি। সংস্কার হলে শুধুমাত্র একটি প্রাচীন স্থাপত্যই নয়, পুনরুদ্ধার হবে একটি ইতিহাস, একটি চেতনা ও একটি আত্মপরিচয়। এ বিষয়ে খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ অনাবিল ইসলাম বলেন,
“একদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মনীষীদের যথাযথ সম্মান জানাতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে কেন্দ্র সরকার বাংলার মনীষীদের হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে—এর বড় প্রমাণ সম্প্রতি সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিম দা’ বলে সম্বোধন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই দানবীর স্যার রাসবিহারী ঘোষের ঐতিহাসিক কাছারি বাড়ির সংস্কার উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রীর বাংলার গৌরব পুনরুদ্ধারের সদিচ্ছার জ্বলন্ত প্রমাণ।”

See also  বিদেশি পর্যটকে দেশে দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ, পর্যটন মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল বাংলা,ভবিষ্যতে এই সাফল্য আরও বৃদ্ধি পাবে মন্তব্য পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ অধ্যক্ষের

হেরিটেজ ও ট্যুরিজম বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রাথমিক সার্ভে ভবিষ্যৎ সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা আর মানুষের আবেগ—এই দুইয়ের মিলনেই তোড়কোণার ভগ্ন কাছারি বাড়ি আবার দাঁড়াবে গর্বের সঙ্গে, নতুন রূপে, নতুন প্রাণে।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি