বিশ্বজুড়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মন্দির শুধু উপাসনার স্থান নয়, তা এক একটি স্থাপত্যের বিস্ময় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক। আয়তন, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্যশৈলীর বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম পাঁচ হিন্দু মন্দির আজও বিস্ময় জাগায় পর্যটক ও গবেষকদের মনে।
১) অঙ্কোর ওয়াট (কম্বোডিয়া)
বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা কমপ্লেক্স হিসেবে স্বীকৃত অঙ্কোর ওয়াটের আয়তন প্রায় ৪০২ একর। ১২শ শতকে রাজা সুর্যবর্মণ দ্বিতীয় এটি বিষ্ণু মন্দির হিসেবে নির্মাণ করেন। বিশাল প্রাকার, সূক্ষ্ম ভাস্কর্য ও হিন্দু পুরাণভিত্তিক খোদাই শিল্প এটিকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। যদিও বর্তমানে এটি বৌদ্ধ উপাসনালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, তবুও এর মূল স্থাপত্য হিন্দু ঐতিহ্যেরই প্রতীক।
২) শ্রীরঙ্গম রঙ্গনাথস্বামী মন্দির (তামিলনাড়ু, ভারত)
প্রায় ১৫৬ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই মন্দির ভারতের বৃহত্তম কার্যকর হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স। ভগবান রঙ্গনাথের (বিষ্ণুর রূপ) উদ্দেশ্যে নিবেদিত এই মন্দিরে রয়েছে সাতটি প্রাচীরবেষ্টিত প্রাকার ও একাধিক গোপুরম। দ্রাবিড় স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন হিসেবে এটি বিশেষভাবে সমাদৃত।
৩) অক্ষরধাম মন্দির (নয়াদিল্লি, ভারত)
২০০৫ সালে উদ্বোধন হওয়া অক্ষরধাম আধুনিক যুগের অন্যতম বৃহৎ হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স। প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই মন্দিরে রয়েছে সূক্ষ্ম পাথর খোদাই, প্রদর্শনী হল এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা কেন্দ্র। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে এটি বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র।
৪) বেলুর মঠ (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
১৮৯৭ সালে স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত বেলুর মঠ কেবল ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, এক বিশাল সাংস্কৃতিক পরিসরও। এর স্থাপত্যে হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টীয় শৈলীর সমন্বয় দেখা যায়। গঙ্গার তীরে বিস্তৃত প্রাঙ্গণ ও স্থাপত্যসৌন্দর্যে এটি বিশ্বের অন্যতম উল্লেখযোগ্য হিন্দু তীর্থক্ষেত্র।
৫) বৃহদেশ্বর মন্দির (তামিলনাড়ু, ভারত)
১১শ শতকে রাজা রাজা চোল প্রথম নির্মিত বৃহদেশ্বর মন্দির দ্রাবিড় স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। এর সুউচ্চ শিখর ও সুবিশাল নন্দী মূর্তি স্থাপত্যকৌশলের অসাধারণ উদাহরণ। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এই মন্দির আজও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।
আয়তনের বিচারে অঙ্কোর ওয়াট শীর্ষে থাকলেও, ভারতের শ্রীরঙ্গম রঙ্গনাথস্বামী মন্দির বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স। প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য থেকে আধুনিক স্থাপত্য—এই পাঁচ মন্দির বিশ্ববাসীর কাছে ধর্মীয় ভক্তি ও শিল্পকলার অনন্য প্রতীক হয়ে রয়েছে।











