ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দর ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। বুধবার বাজার খুলতেই এক ধাক্কায় বড় পতন ঘটে ভারতীয় মুদ্রার। এক লাফে ৬৯ পয়সা কমে ডলারের বিনিময়ে টাকার মূল্য দাঁড়ায় ৯২.১৮ টাকায়। এর আগে সোমবার বাজার বন্ধের সময় এই দর ছিল ৯১.৪৯ টাকা।বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টাকার দামে ধারাবাহিক পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল।
কখনও ২০-২৫ পয়সা, কখনও আবার ৫-৭ পয়সা করে কমছিল বিনিময়মূল্য। তবে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর সেই পতন আরও তীব্র হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের ধারণা, United States ও Iran-এর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার জেরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে ভারতীয় মুদ্রার উপর।
যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। গত কয়েক দিনে তেলের দাম প্রায় ১২-১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যারেলপ্রতি দাম ছাড়িয়েছে ৮২ ডলার, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ।ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে তেলের দাম বাড়লেই আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ও টাকার দরের উপর।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ডলার বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থিক চাপ বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।টাকার এই লাগাতার পতনের দিকে নজর রাখছে Reserve Bank of India।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে বাজারে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক মহলের একাংশ।গত জানুয়ারিতে ডলারের তুলনায় টাকার দর ৯১.৯৮-এ পৌঁছেছিল। তবে বুধবারের পতন সেই রেকর্ডও ছাপিয়ে গিয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে সর্বকালীন নজির।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকে, তবে আগামী দিনে টাকার উপর চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে আমদানি ব্যয়, জ্বালানির দাম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।এখন দেখার, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতীয় মুদ্রা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।











