রাজ্য বাজেটে ঘোষণার পর থেকেই চর্চার কেন্দ্রে রয়েছে ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ও কর্মসংস্থানের প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রথমে ঘোষণা করা হয়েছিল, চলতি বছরের ১৫ আগস্ট থেকে প্রকল্প কার্যকর হবে। তবে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন—আগস্ট নয়, আগামী এপ্রিল মাস থেকেই চালু হবে এই প্রকল্প।
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। নির্দেশিকা অনুযায়ী রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে বিডিও অফিসে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়। পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যান্য ব্লকের পাশাপাশি রায়না–১ বিডিও অফিসেও শেষ পর্যায়ের আবেদনপত্র জমা ও নথি যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রায়না–১ বিডিও অফিস চত্বরে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। প্রকল্পের সুবিধা পেতে অসংখ্য যুবক-যুবতী লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র জমা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীদের সুবিধার্থে শিবিরে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয় এবং দ্রুত নথি যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে কেউ অযথা হয়রানির শিকার না হন।
শিবির পরিদর্শনে উপস্থিত হন রায়না–১ পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা রায়না–১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বামদেব মণ্ডল। তিনি আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বামদেব মণ্ডল বলেন,“চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন বাইরে ছিলাম। ফিরেই সরাসরি শিবিরে এসে দেখলাম বিপুল সংখ্যক যুবক-যুবতী লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিচ্ছেন। এটা প্রমাণ করে রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় আস্থা রেখেছেন। ‘বাংলার যুব সাথী’ শুধুমাত্র একটি ভাতা প্রকল্প নয়, এটি আত্মনির্ভরতার পথে প্রথম ধাপ। শিক্ষিত বেকারদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়ে তাঁদের কর্মসংস্থানের প্রস্তুতির সুযোগ করে দিচ্ছে আমাদের সরকার।”
তিনি আরও বলেন, “ভূমিহীনদের জন্য যে প্রকল্প চালু হয়েছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আজ দিদির নেতৃত্বে রাজ্যে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-যুব—সকলেই কোনও না কোনও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। আমাদের লক্ষ্য এই প্রকল্পগুলির স্বচ্ছ ও নির্ভুল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।”
বামদেব মণ্ডল দাবি করেন, এপ্রিল মাস থেকেই প্রকল্প কার্যকর হওয়ায় যুব সমাজ দ্রুত উপকৃত হবে। ব্লক স্তরে নিয়মিত নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যোগ্য আবেদনকারীরা সুবিধা পান এবং কেউ অপ্রয়োজনীয় জটিলতার সম্মুখীন না হন।
রায়না–১ বিডিও অফিসে এদিনের ভিড় প্রমাণ করছে, নতুন প্রকল্পকে ঘিরে যুব সমাজের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সক্রিয় উপস্থিতি আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলেই মত স্থানীয়দের।







