পানীয় জলের তীব্র সংকটের জেরে আবারও জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুরিয়ার কেন্দা এলাকার একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টা থেকে রানীগঞ্জ থেকে পাণ্ডবেশ্বরগামী ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভে সামিল হন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় সাত-আট মাস ধরে তাদের এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। কয়লা খনি অধ্যুষিত এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়ায় বহু কুয়ো, পুকুর ও ছোট জলাশয় প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে। ফলে প্রতিদিনের জল সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় মূলত ‘কালা ঝরিয়া ওয়াটার প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই প্রকল্প বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় স্বাভাবিক জল পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। তার জেরে গোটা অঞ্চলে জলের হাহাকার চরমে উঠেছে।
এর আগেও সংলগ্ন রানীগঞ্জ এলাকায় একই দাবিতে দুই জায়গায় পথ অবরোধ হয়েছিল। সেসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন মেলেনি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাই এবার আবারও পথে নেমে বিক্ষোভে সামিল হন তারা।
বিক্ষোভের জেরে কর্মব্যস্ত সময়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসগামী যাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় আটকে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
এলাকাবাসীর সাফ বক্তব্য, “জল নেই তো ভোট নেই।” তাদের অভিযোগ, বাইরে থেকে জলের ট্যাংকার আনতে প্রতি বার ৭০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সরকারের দেওয়া দেড় হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার বড় অংশই যদি জলের পেছনে ব্যয় হয়, তাহলে সংসার চলবে কীভাবে— সেই প্রশ্ন তুলেই সরব হন তারা।
এই মুহূর্তে রাস্তার উপর বসেই অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।








