আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

গোবিন্দভোগ,তুলাইপাঞ্জির সাথে রাস্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজের তকমা পেল এবার দ:২৪ পরগনার কনকচূড় ধানের চাল

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : গোবিন্দভোগ, তুলাইপঞ্জির সঙ্গেই রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজ তকমা পেল এবার দক্ষিন ২৪ পরগনার কনকচূড় ধানের চাল।খুশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে কৃষক ও মোয়া ব্যবসায়ীরা।গোবিন্দভোগ,তুলাইপঞ্জির সঙ্গেই এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজের তকমা পেল কনকচূড় ধানের চাল।দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর, ময়দা, নিমপীঠ, রায়দিঘি,কুলপি,মন্দিরবাজার, কুলতলি,কাশিনগরে প্রচুর পরিমাণে এই কনকচূড় ধানের চাষ হয়। চালের থেকেও বেশি ব্যবহৃত হয় এই ধান থেকে তৈরি খই।

বিশ্ব বিখ্যাত জয়নগরের মোয়ার মূল উপাদান এই কনকচূড় ধানের খই।যার দৌলতে আজ জয়নগরের মোয়া বিশ্ব জুড়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে।আর এই কনকচূড়ের স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে খুশির হাওয়া স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ী মহলে। তবে সেই সঙ্গে রয়েছে আফসোশও। অভিযোগ,যে গন্ধের জন্য কনকচূড় ধানের খইয়ের এত খ্যাতি, ক্রমাগত রাসায়নিকের ব্যবহারে সেই গন্ধ ক্রমশ কমে যাচ্ছে।জৈব উপায়ে এই চাষের উপর জোরালো দাবি উঠলো এবার।পাশাপাশি,নানা কারণে উৎপাদন ও কমছে বলেই দাবি।

জয়নগরের এক মোয়া ব্যবসায়ী রাজেশ দাস বলেন, কনকচূড় ধানের খইয়ের আসল ব্যাপার তো এর গন্ধ।কিন্তু সেই গন্ধই আজকাল যেন কমে গিয়েছে।তার প্রভাব পড়ছে এই মোয়ায়।বহড়ুর এক মোয়া ব্যবসায়ী গণেশ দাস বলেন,অল্প জমিতে বেশি ধান ফলাতে কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিকের ব্যবহার হচ্ছে।তার উপর খই ভাজা হচ্ছে মেশিনে।এসবেরজন্যই গন্ধ কমছে।কনকচূড় ভাল না হলে মোয়া ভাল হবে না।তাই এত বড় স্বীকৃতির পর এই দিকটায় একটু নজর দেওয়া হোক।স্থানীয় সূত্রে খবর,মোয়ার বাজারে কনকচূড়ের চাহিদা রয়েছে।তবে এর বাইরে এই ধানের ব্যবহার কম। তার উপর ইদানিং মোয়া তৈরির ক্ষেত্রেও অনেকেই খাঁটি কনকচূড়ের ব্যবহার করেন না। অন্য খই দিয়েই কাজ চালান।

এইসবের জেরে প্রচুর পরিমাণে এই ধানের চাষ হয় না। তাছাড়া এই ধান চাষ করার জন্য উঁচু জমির প্রয়োজন। অন্যান্য ধান নিচু জমিতেই চাষ হয়। সেই কারণেও অনেকে এই ধান চাষ করেন না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়,বড় জমিতে অন্যান্য ধানের সঙ্গে অল্প একটু জমিতে কনকচূড়ের চাষ করছেন কিছু চাষিরা।তবে বর্তমানে ব্যাপক হারে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে নিমপীঠ সহ একাধিক এলাকায় কনকচূড় ধানের চাষ হয়েছে।

See also  গাছ কাটা আটকাতে যাওয়া বন কর্মীদের মারধোর । গ্রেফতার দুই হামলাকারী

নিমপীঠ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের কৃষি বিশেষজ্ঞ ড: সোমনাথ সরদার বলেন,আমাদের এখানেএবারে জৈব উপায়ে কনকচূড় ধানের চাষ হয়েছে এবং ভালো ফলন হয়েছে।কৃষকরা এগিয়ে আসছেন এই কনকচূড় ধানের চাষে।সুশান্ত মণ্ডল, ইলিয়াস মোল্লা নামে ময়দা এলাকার চাষিরা বলেন,কনকচূড়ের দাম ভাল পাওয়া যায় ঠিকই। তবে বেশি জমিতে চাষ করলে খুব একটা লাভ তেমননেই। অন্য ধানের সঙ্গে অল্প জমিতে এই ধানের চাষ করেছি আমরা।চাষি ও ব্যবসায়ী মহলের দাবি,মোয়ার মত একটি জিনিস যে ধানের উপর নির্ভরশীল, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর সেই ধানের চাষ ও বিপণনে প্রশাসনিক নজরদেওয়া হোক।আর এত বড় এই সম্মাণ প্রাপ্তি আগামী দিনে জয়নগরের মোয়া শিল্পের সাথে জড়িত সবাই উপকৃত হবে বলে ধারনা বিশেষজ্ঞ মহলে।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি