আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

ফেব্রুয়ারিতেই ১.২৮ লক্ষ নতুন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ভাতা অপেক্ষমাণ তালিকা থেকেই অগ্রাধিকার, জানাল নবান্ন

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা ও মানবিক/প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য অপেক্ষায় থাকা প্রায় ১ লক্ষ ২৮ হাজার নতুন উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘পারমানেন্ট ওয়েটিং লিস্ট’-এ থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকেই এই নতুন উপভোক্তাদের বেছে নেওয়া হয়েছে।

নতুন আবেদন নয়, অগ্রাধিকার পুরনোদের বর্তমানে সম্পূর্ণ নতুন আবেদনকারীদের ভাতা মঞ্জুর করা হচ্ছে না। বরং যাঁরা আগে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। National Social Assistance Programme (NSAP)-এর নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর উপভোক্তাদের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন ও ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে—কেউ মারা গিয়েছেন, কেউ আর যোগ্য নন। ফলে তৈরি হয়েছে বহু ‘শূন্যপদ’। সেই শূন্যপদ পূরণ করতেই অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নতুন ১.২৮ লক্ষ উপভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২০ লক্ষ ৪৬ হাজার মানুষ বার্ধক্য ভাতার সুবিধা পাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য এই সংখ্যা বাড়িয়ে ২৮ লক্ষে পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য গত দুই বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে কোটাবৃদ্ধির আবেদন জানানো হলেও এখনো অনুমোদন মেলেনি। ফলে আপাতত বিদ্যমান কোটার মধ্যেই শূন্যপদ পূরণ করে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

উপভোক্তারা মাসে ১০০০ টাকা করে ভাতা পান। এই অর্থ কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে বহন করে—৬০–৭৯ বছর: ১০০০ টাকার মধ্যে রাজ্য দেয় ৭০০ টাকা, কেন্দ্র দেয় ৩০০ টাকা। ৮০ বছর বা তার বেশি: রাজ্য ও কেন্দ্র উভয়েই ৫০০ টাকা করে দেয়।

“যোগ্য মানুষ যেন বঞ্চিত না হন”—অনাবিল ইসলাম খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ অনাবিল ইসলাম বলেন, তিনি আরও বলেন “দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষ ভাতার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছতে শুরু করায় সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে । সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—যাঁরা প্রকৃত যোগ্য, তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি সুবিধা না পান। একই সঙ্গে আমরা চাই, কেন্দ্র দ্রুত কোটাবৃদ্ধির অনুমোদন দিক, তাহলে আরও বহু অপেক্ষমাণ মানুষ উপকৃত হবেন। আমাদের পঞ্চায়েত স্তরেও নজরদারি রাখা হচ্ছে, যাতে প্রত্যেক উপভোক্তা সময়মতো ভাতা পান এবং কেউ দালালচক্রের ফাঁদে না পড়েন”।

See also  মাধ্যমিকে ৬০৫ নম্বর পেয়েও ভর্তি হওয়ার ফর্ম মিললোনা পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না স্বামী ভোলানন্দ বিদ্যায়তনে।

তিনি আরও বলেন, “ভাতা শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের সম্মান রক্ষার একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। সেই দায়বদ্ধতা পালনে আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর”।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি