পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর চত্বর থেকে গিরিডিহ নির্বাচনী গুলিকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত শিবম শ্রীবাস্তব (আজাদ) কে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তার সঙ্গে থাকা আসানসোলের নম্বরযুক্ত একটি গাড়ি ও চালককেও আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ড-এর গিরিডিহ জেলায় নির্বাচন সংক্রান্ত গুলিবর্ষণের ঘটনায় পলাতক ছিলেন শিবম শ্রীবাস্তব (আজাদ)। গিরিডিহের ভান্ডারিডি আজাদ নগরের পঞ্চাম্বা এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরে সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ, পরে শিবম শ্রীবাস্তব (আজাদ) ও অন্যান্য অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা পিস্তল দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনায় দু’জন গুরুতর জখম হন। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য গিরিডিহ থেকে ধানবাদ-এ রেফার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ভান্ডারিডিতে নিযুক্ত সদর ব্লক কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট মহেশ ভগতের আবেদনের ভিত্তিতে পঞ্চাম্বা থানায় প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিবম শ্রীবাস্তব (আজাদ) সহ একাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।
ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত বিদেশে পালানোর উদ্দেশ্যে অন্ডালের বিমানবন্দরে পৌঁছেছে বলে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। এরপর গিরিডিহ পুলিশ আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট-এর অন্ডাল থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে। অন্ডাল থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশ দল বিমানবন্দর এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় শিবম শ্রীবাস্তব (আজাদ) কে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিবম শ্রীবাস্তব (আজাদ) এর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং তিনি পূর্বে জেল খেটেছেন। জেলা প্রশাসন তাকে কয়েক মাসের জন্য নির্বাসিতও করেছিল। নির্বাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি গিরিডিহ শহরের ঝিনঝরি মহল্লায় নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তবে গুলিকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। চলতি নির্বাচনে তার মা ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্ডাল থানা ও গিরিডিহ পুলিশের যৌথ বাহিনী অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গিরিডিহ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর জিতেন্দর কুমার ইতিমধ্যেই অন্ডাল থানায় পৌঁছেছেন। খুব শীঘ্রই ট্রানজিট রিমান্ডে অভিযুক্তকে গিরিডিহে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।








