দেশে রাজনীতির রং বদলালেও চোরের অভ্যাস বদলায় না! আগে ট্রেন থেকে কম্বল চুরি করে ভাইরাল বিজেপি নেতা, এবার টাকা-সোনা ছাপিয়ে কম্বল চুরিতে নাম লেখালেন শাসকদলের তৃণমূল নেতা।
মনে হচ্ছে, কম্বল এখন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন সূচক! অভিযুক্তের নাম হাই মল্লিক। তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি। অভিযোগ, টাকা ও সোনার পাশাপাশি কম্বল চুরির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করে। ইতিমধ্যেই আদালতের নির্দেশে তাকে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দল আলাদা হলেও চুরির অভিযোগে একের পর এক রাজনৈতিক নেতার নাম জড়িয়ে পড়ায় প্রশ্ন উঠছে—এটাই কি এখন রাজনীতির নতুন বাস্তবতা?
উল্লেখ্য: পূর্ব বর্ধমান জেলার,গুসকরা পৌরসভা এলাকায় গৃহস্থের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। অবাক করার বিষয়, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদের পাশাপাশি চোরেরা কম্বল পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে যায় চোর! ঘটনাটি গুসকরা পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটিয়া সৎসঙ্গ মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। পোস্ট অফিসের কর্মী রানা বিশ্বাসের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, রানা বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী কয়েকদিন আগে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার তাঁদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। শনিবার বিকেলে রানার মা সিমা বিশ্বাস বাড়িতে তালা দিয়ে গুসকরা শান্তিপুরে নিজের বাপের বাড়িতে বেড়াতে যান।
বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চোর বা চোরের দল বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। দুটি ঘরের দুটি আলমারি ভেঙে সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার সহ নগদ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। তবে এখানেই শেষ নয়—পরিবারের দাবি, শীতের রাতে চোরেরা ঘরের কম্বল পর্যন্ত নিয়ে গেছে! ফলে গোটা ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি চর্চাও শুরু হয়।
ঘটনার পর বাড়িতে ফিরে ভাঙা দরজা ও লণ্ডভণ্ড ঘর দেখে হতবাক হয়ে যান সিমা বিশ্বাস। তিনি জানান, এই চুরির ঘটনায় তাঁদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই একই এলাকায় একটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। পরপর চুরির ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ে এলাকাবাসীদের মধ্যে। খবর পেয়ে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের অতি সক্রিয়তায় ধরা পরে চোর, জানা যায় সেই চোর নাকি তৃণমূলের দাপুটে নেতা! ঘটনায় পুলিশ তৃণমূল নেতা সহ আরও একজন -কে আদালতে পেশ করে সাত দিনের হেপাজত নিয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনা প্রসঙ্গে গুসকরা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকা চোংদার জানান, “আমি ঘটনার কথা শুনেছি আমি নিজেও থানায় গিয়েছিলাম ঘটনার তদন্ত চলছে আমাদের বক্তব্য হাই মল্লিক কে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে মানে উনি দোষী নন। পুলিশের কাছে কোন প্রমাণ থাকলে প্রমান দেবেন। তবে যার কথা হচ্ছে তিনি একসময় ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন ঠিকই এখন কিন্তু তিনি নেই”।
যে ধাঁচে চুরি হয়েছে সেখান থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় এই চোর তৃণমূল কংগ্রেসের! এমনটাই বলে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির। বিজেপি নেতা কটাক্ষ করে আরও বলেন, “তৃণমূলের নেতারা চুরি করতে করতে এমন অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে তারা এখন মানুষের বাড়িতে ঢুকে চুরি করছে কম্বল চুরি করাটা তৃণমূলের স্বভাবসিদ্ধ অভ্যাস”।








