স্মার্টফোনের দাপটে আজ গ্রিটিংস কার্ড প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন বছরের শুভেচ্ছা থেকে মনের কথা আদান-প্রদান—সবই এখন টেক্সট, ইমোজি কিংবা ভিডিও কলে সীমাবদ্ধ। তবে এই আধুনিকতার মাঝেও ব্যতিক্রমী এক ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়।
ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছরই বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের মধ্যে হাতে বানানো গ্রিটিংস কার্ড বিনিময়ের রীতি পালন করা হয়। কার্ডের সঙ্গে থাকে চকলেট, ফুল, ছোট উপহার—ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে এক হোস্টেল থেকে অন্য হোস্টেলে পৌঁছে যায় পড়ুয়ারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলিতে সরস্বতী পুজোর সময় ‘তত্ত্ব’ আদান-প্রদান যেমন এক প্রাচীন ও জনপ্রিয় রীতি, ঠিক তেমনই নতুন বছরে গ্রিটিংস কার্ড বিনিময়ও একটি বিশেষ সংস্কৃতি। যদিও সরস্বতী পুজোর তত্ত্ব বিনিময়ের শোভাযাত্রা ও ঢাকঢোলের উন্মাদনা অনেকেরই জানা, নতুন বছরের এই গ্রিটিংস কার্ড বিনিময়ের রীতি এখনও অনেকের অজানা।
বৃহস্পতিবার ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেও একইভাবে এই ঐতিহ্য পালন করা হল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হোস্টেলে। গোলাপবাগ ও তারাবাগ এলাকার বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে থাকা হোস্টেলগুলির পড়ুয়ারা নতুন পোশাকে সেজে, নিজেদের মতো করে সাজানো শুভেচ্ছা কার্ড হাতে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ে এক হোস্টেল থেকে অন্য হোস্টেলে। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় নানা ধরনের গেমস, নাচ-গান ও আনন্দঘন অনুষ্ঠানের।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী শ্রদ্ধা ঘোষ জানান, “প্রতিবছরই আমরা নিজেদের হাতে গ্রিটিংস কার্ড বানাই। প্রতিটি হোস্টেল আলাদা আলাদা থিমে কার্ড তৈরি করে। শুধু কার্ড নয়, তার সঙ্গে থাকে ছোট ছোট উপহার—চকলেট, চিপস, ফুল। সরস্বতী পুজোর তত্ত্ব বিনিময়ের মতোই নতুন বছরের দিনেও আমরা এক হোস্টেল থেকে অন্য হোস্টেলে গিয়ে কার্ড বিনিময় করি।”
ডিজিটাল যুগের মাঝেও এমন মানবিক ও সৃজনশীল উদ্যোগ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।








