মালদা জেলার রাজনীতিতে মতিবুর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। ভোটের আগে অনুদান, একের পর এক দলে যাওয়ার চেষ্টা এবং প্রশ্নের মুখে নীরবতা—সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী থেকে শাসক দলের কর্মীরা।
বিজেপি নেতা কিষান কেডিয়া সাফ জানিয়ে দেন, বিধানসভা ভোটের পর মতিবুর রহমানের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কটাক্ষ, “উনি পরিযায়ী শ্রমিকের মতো—ভোটের আগে এলাকায় আসেন, ভোট শেষ হলেই উধাও হয়ে যান।” কেডিয়ার অভিযোগ, নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্যই বিজেপির টিকিট নিয়েছিলেন মতিবুর রহমান, আদর্শ বা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না।
কেডিয়ার আরও দাবি, অনুদান দিয়ে প্রচার করাই মতিবুর রহমানের রাজনীতির মূল হাতিয়ার। গত বিধানসভা ভোটে নিজের গ্রামে একাধিক জায়গায় অনুদান দেওয়ার পরও গ্রামে ভোট পেয়েছিলেন মাত্র ৪৮টি। বিজেপি নেতার ভাষায়, “লোক দেখানো দান আর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার আসলে রাজনৈতিক নয়, পুরোপুরি ব্যবসায়িক স্বার্থে করা।” এমনকি বর্তমানে তাঁকে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে এবং সেই কর্মসূচির খরচও নাকি তিনিই দিচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠছে বলে দাবি করেন কেডিয়া। যদিও তাতে আদৌ কোনও তৃণমূল দল তাঁকে গ্রহণ করছে কি না, সে প্রশ্নই থেকে যাচ্ছে।
তৃণমূল কর্মী সালাউদ্দিন রেজাও মতিবুর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, “এলাকায় কে টাকা দিচ্ছে, কে কী করছে—তা নিয়ে তৃণমূলের কোনও মাথাব্যথা নেই।” তৃণমূল উন্নয়নকে সামনে রেখেই রাজনীতি করে এবং রাজ্যজুড়ে ২৯৪টি আসনেই দলের মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—এটাই দলের অবস্থান। সালাউদ্দিন রেজার বক্তব্য আরও স্পষ্ট—মতিবুর রহমান আগে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন, এখন কখনও কংগ্রেস, কখনও তৃণমূলে ঢোকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এভাবে টিকিট মেলে না। প্রতিটি দলের নিজস্ব সংগঠন ও নেতৃত্ব আছে। “টাকা দান করা ব্যক্তিগত বিষয়, কিন্তু শুধু টাকা দিয়ে নেতা হওয়া যায় না। সত্যিই জনসমর্থন থাকলে নির্দল হয়ে দাঁড়ালেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে,”—তীব্র মন্তব্য তাঁর।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, প্রশ্নের মুখে মতিবুর রহমানের নিজস্ব নীরবতা। বিজেপি থেকে তিনি রিজাইন করেছেন কি না বা দল তাঁকে বহিষ্কার করেছে কি না—এই সরাসরি প্রশ্নে তিনি কোনও উত্তর না দিয়ে বারবার “একটু থামুন, একটু থামুন” বলে এড়িয়ে যান। তিনি নিজে মুখ না খুললেও তাঁর পাশে থাকা এক আত্মসহায়তা দলের সদস্য জানান, “সময় হলে বলা হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে,দল বদলের চেষ্টা, অনুদানকে হাতিয়ার করে প্রচার এবং প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা—সব মিলিয়ে মতিবুর রহমানের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। আদর্শ না সংগঠন—কোনও দিকেই স্পষ্ট অবস্থান না থাকলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে জনতার আদালতেই পরীক্ষায় বসতে হবে, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।








