রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আর কয়েক মাস দূরে। তার আগেই নতুন বছরের শুরুতে ফের রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠলেন বিজেপির দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ। দীর্ঘদিন পর ফের স্বমেজাজে দলীয় কর্মসূচিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন—রাজনীতির মাঠে আবারও পুরো দমে খেলতে প্রস্তুত তিনি।
২০২৫ সালের শেষ লগ্নে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরের সময় থেকেই রাজ্য বিজেপির অন্দরে নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন বছরের প্রথম দিনেই রাজ্য বিজেপির সভাপতির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন দিলীপ ঘোষ। সেই বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, আগামিদিনে দল যে কর্মসূচি নেবে, তাতে তিনি নিয়মিতভাবেই উপস্থিত থাকবেন।
রাজ্য বিজেপির সভাপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দিলীপ ঘোষ আবার সক্রিয়ভাবে দলীয় কাজ করবেন এবং সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে মাঠে নামবেন। পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনে দল যদি প্রার্থী হতে বলে, সেক্ষেত্রে খড়গপুর বিধানসভা কেন্দ্রই তাঁর পছন্দের আসন বলে জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
আগামী ১৩ জানুয়ারি দুর্গাপুরে বিজেপির একটি জনসভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তাঁর। ফলে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন দিলীপ ঘোষ। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম। তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ হোক কিংবা অন্য যে কোনও নেতা—বাংলার মানুষ উন্নয়নের দিকেই তাকিয়ে আছেন। রাজ্যে যিনি উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বেই আজ বাংলায় রাস্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। বিজেপি শুধু নির্বাচনের আগে মুখ বদলায়, কিন্তু বাংলার মানুষ জানেন, কাজের সময় কাকে পাশে পেয়েছেন”।
তিনি আরও বলেন,“বিজেপির নেতারা মাঝে মাঝে মাঠে নামার কথা বললেও, বাংলার মানুষের পাশে থাকার ইতিহাস তাঁদের নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরন্তর মানুষের পাশে থেকেছেন, তাই বাংলার উন্নয়নের মুখ হিসেবে তিনিই আজ সর্বজনপ্রিয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও মানুষ উন্নয়ন আর বিশ্বাসের পক্ষেই রায় দেবেন”।








