পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের তরুণী নার্সের অকালমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। Nipah virus infection-এ আক্রান্ত হয়ে টানা এক মাস দশ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর পরও কাটছে না দুশ্চিন্তা। সংক্রামক রোগে মৃত্যু হওয়ায় তাঁর দেহ গ্রামে আনা যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া মৃতদেহ গ্রামে আনা সম্ভব নয় বলেই জানা গিয়েছে। ফলে শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখার অপেক্ষায় দিন গুনছেন পরিবারের সদস্য ও গ্রামের মানুষজন।
অসুস্থতা থেকে লড়াই, শেষরক্ষা হল না পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই নার্স। প্রথমে কাটোয়ার এক চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়। ৩ জানুয়ারি সকালে জ্ঞান হারালে তাঁকে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তরিত করা হয় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিকিৎসকরা প্রথমে মনে করেছিলেন, তিনি সাড়া দিচ্ছেন চিকিৎসায়। কিন্তু পরবর্তীতে ফুসফুসে সংক্রমণ মারাত্মক আকার নিলে আর তাঁকে বাঁচানো যায়নি। ৩৯ দিনের লড়াই শেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তরুণী নার্স। বর্তমানে মৃতার বাবা-মা ও ভাই বারাসাতে রয়েছেন। গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনেরা শেষবারের মতো তাঁদের ‘ঘরের মেয়ে’র মুখ দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। প্রশাসনের নজরে পরিস্থিতি প্রশাসন সূত্রে খবর, সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনা করে স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, “নিপা ভাইরাস নতুন কিছু নয়। আগেও এই ভাইরাস ছিল এবং সেই সময়ও স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। বিগত কয়েকদিন ধরে নিপা ভাইরাস নিয়ে একটা অযথা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আগেই সচেতনতামূলক বার্তা পাঠিয়েছি। সাধারণ মানুষকে বোঝানো হয়েছে কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে, কী কী উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
যে তরুণী নার্সের মৃত্যু হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং জটিল সংক্রমণে ভুগছিলেন। চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এই মৃত্যু। তবে সাধারণ মানুষকে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। স্বাস্থ্য দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। গুজব বা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়াবেন না। প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর ভরসা রাখুন। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখেই মৃতদেহ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইড লাইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব”।
শোকের ছায়া মঙ্গলকোটে মৃত নার্সের দাদু ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলেন, “এই দিনটাও যে দেখতে হবে ভাবিনি। মেয়েটা নার্স হয়ে অসুস্থ মানুষের সেবা করবে—এই স্বপ্নই দেখেছিলাম। সেই স্বপ্ন পূর্ণ হওয়ার মুখেই এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে, ভাবতেই পারছি না”। তরুণী নার্সের অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মঙ্গলকোটের গ্রামে। একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে শেষবারের মতো মুখ দেখার অনিশ্চয়তা—দ্বৈত যন্ত্রণায় দিন কাটছে পরিবারের।








