পূর্ব বর্ধমান জেলার, খণ্ডঘোষ ব্লক অফিস প্রাঙ্গণে সরকারি ভাতা প্রকল্পে নাম নথিভুক্তকরণ ঘিরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার কাজ। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পেও নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে বিধানসভাভিত্তিকভাবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের আওতায় মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। অন্যদিকে ভূমিহীন কৃষকদের জন্য বছরে ৪০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই নাম নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া। সময়সীমা সীমিত হওয়ায় আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক কাউন্টার খোলা হয়েছে। নির্দিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে। বেকার ভাতার আবেদনকারীদের উপস্থিতিই সবথেকে বেশি বলে জানা গেছে।
এই প্রসঙ্গে ব্লক সভাপতি মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম (ফাগুন) বলেন, “রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য হল সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। যুব সমাজ যাতে কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পায়, সেই ভাবনা থেকেই ‘যুব সাথী’ প্রকল্প চালু হয়েছে। একইভাবে ভূমিহীন কৃষকদের জন্য বার্ষিক ভাতা তাঁদের ন্যূনতম সহায়তা নিশ্চিত করবে। আমরা চাই, যোগ্য কোনও ব্যক্তি যেন আবেদন থেকে বঞ্চিত না হন। তাই ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ চলছে। সকলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি সহ আবেদন করার অনুরোধ জানাচ্ছি”।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র ও অন্যান্য নথি সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে দ্রুত আবেদন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক নেতা শ্রী বিশ্বনাথ রায় জানান, “সরকারি ভাতা সংক্রান্ত এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এই আর্থিক সহায়তা কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে প্রশাসনের আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন, যদিও যথাযত নজর রয়েছে প্রশাসনিক স্তরে । অনেকেই সঠিক তথ্যের অভাবে সমস্যায় পড়ছেন। তাই ব্লক স্তরে পর্যাপ্ত পরামর্শকেন্দ্র ও সহায়তা ডেস্ক-ও রয়েছে প্রতিটা কেন্দ্রে। আমরা চাই, প্রকৃত উপভোক্তারা যেন কোনওভাবেই বঞ্চিত না হন”।







