অল্পের জন্য বড়ো দুর্ঘটনা এড়ানো গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার, বর্ধমান এক ব্লকের, বাঘার এক অঞ্চলের, জিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পরীক্ষা চলাকালীন আচমকাই ভেঙে পড়ে ছাদের কংক্রিটের একটি অংশ। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের মধ্যে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার, বর্ধমান এক ব্লকের বাঘা অঞ্চল অন্তর্গত জিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হঠাৎ ভেঙে পড়া ছাদের প্লাস্টার ও কংক্রিটের টুকরোয় ভয়ে ছুটোছুটি শুরু করে পড়ুয়ারা। শিক্ষকরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন। এমনকি ভাঙা অংশ ঝুলে থাকার কারণে স্কুলের ঘন্টার হাতুড়ি দিয়ে সেটি নিজে নামাতে দেখা যায় এক শিক্ষককে।

স্কুলের শিক্ষক আকবর আলী জানান, “পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় আচমকাই ছাদের কংক্রিট ভেঙে পড়ে। এরপর পড়ুয়াদের মাথায় যাতে আর কিছু না পড়ে, সেই ভয়েই আমি ঘন্টা বাজানোর হাতুড়ি দিয়ে ঝুলে থাকা ভাঙা অংশ নিজে ভেঙে নামিয়ে দিই। কয়েক বছর ধরে এই সমস্যা চলছে, বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি”।
অন্য এক শিক্ষিকা এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। ইতিমধ্যেই সেটি ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি গণ-মাধ্যম পত্রিকা। অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে স্কুল ভবনের সংস্কারের ব্যবস্থা না হলে যেকোনো সময় বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা এসএফআই সম্পাদক উষসি রায়চৌধুরী তিনি বলেন, ‘আমাদের যে পশ্চিমবাংলার সরকার চলছে, তৃণমূলের সরকার সার্বিকভাবে জন শিক্ষার পরিকাঠামোকে নষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে দিনের পর দিন। সরকারের তরফে যে বাজেট সেই বাজেট কমিয়ে আনা হচ্ছে। সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোর জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন সেটা সরকারের তরফে প্রদান করা হচ্ছে না। আমরা যদি কম্পোজিট প্লান্টের কথা ধরি সেই মর্মে কোথাও কম্পোজিট প্ল্যান্টের টাকা সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও দেওয়া হচ্ছে না, ফলে দেখা যাচ্ছে প্রাইমারি থেকে হাইস্কুলে সর্বত্রই অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ফি নেওয়ার ফলে বহু ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হতে পারছে না। এমনকি আমরা এটাও দেখতে পাচ্ছি স্কুলের ডেভেলপমেন্ট এর জন্য ফি নেওয়া হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে! তাহলে স্কুলের করুণ দশা সরকারের নজরে আসবে কিভাবে”!
তৃণমূল রাজ্য এসটি সেলের চেয়ারম্যান দেবু টুডু বলেন, “পশ্চিমবাংলায় এমন কোন স্কুল নেই, যেখানে সেই স্কুল পরিকাঠামোগত দিক থেকে পিছিয়ে আছে। ঘরে থাকা যাচ্ছে না এরকম স্কুল নেই বললেই চলে। আমাদের বর্ধমান জেলাতে-তো নেই। বিগত কয়েক মাস যাবত অতি বর্ষণ চলছে সেই কারণে ঘটনা ঘটে থাকতেও পারে তবে নিশ্চয়ই নজরে এসেছে প্রশাসনের। যদি আগে থাকতে প্রশাসনকে জানানো হতো তাহলে নিশ্চয়ই কিছু না কিছু ব্যবস্থা হতো। তবে এই ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই ব্যবস্থা হবে”।