কল্যাণ দত্ত, পূর্ব বর্ধমান:-পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান-এ ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করল বর্ধমান পৌরসভা। বৃহস্পতিবার পৌরসভার বোর্ড মিটিংয়ে বাজেট পেশ করেন চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র সরকার। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৬ মার্চ বর্তমান বোর্ড শপথ গ্রহণ করে। সেই হিসেবে চার বছরের কার্যকালের মধ্যে এটি ছিল বোর্ডের চতুর্থ বাজেট। বাজেট বক্তৃতায় চেয়ারম্যান দাবি করেন, গত চার বছরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং শহরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক পরিষেবা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আগামী অর্থবর্ষেও পানীয় জল, নিকাশি, রাস্তা সংস্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আলোকসজ্জা সহ একাধিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। নাগরিক পরিষেবা আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে বাজেট ঘোষণার পরেই পুরসভা প্রাঙ্গণে অন্য চিত্র ধরা পড়ে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্যাজুয়াল বা অস্থায়ী কর্মী চেয়ারম্যানকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে, অথচ বহু পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও নতুন করে স্থায়ী নিয়োগ করা হচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজের চাপ বহন করছেন অস্থায়ী কর্মীরাই।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁরা আগেও একাধিকবার ডেপুটেশন দিয়েছেন এবং লিখিতভাবে দাবি পেশ করেছেন, কিন্তু কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৯৩৫ জন অস্থায়ী কর্মী বিভিন্ন বিভাগে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের দাবি, অন্তত আপাতত মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হোক, যাতে ন্যূনতম জীবিকা নির্বাহ সম্ভব হয়।
অস্থায়ী কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, “দাবি অনেক থাকতে পারে, কিন্তু আপাতত পরিবার-পরিজন নিয়ে দু’বেলা ডাল-ভাত খেতে পারার মতো আয় নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি”। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, একদিকে উন্নয়নের দাবিতে বাজেট পেশ, অন্যদিকে কর্মীদের বেতন ও নিয়োগ সংক্রান্ত অসন্তোষ—এই দুইয়ের সমান্তরাল চিত্রে দিনভর চর্চায় ছিল বর্ধমান পৌরসভা। আগামী দিনে প্রশাসন ও কর্মীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে অস্থায়ী কর্মীরা।







