রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি চাল। গোবিন্দভোগ-সহ রাজ্যের তিন প্রকার চালকে ‘খাদ্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে United Nations। এই তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলার সুপরিচিত সুগন্ধি চাল গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচূড়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সম্মান লাভে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত রাজ্যের কৃষক সমাজ ও রাইস মিল মালিকরা।
রাজ্যের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত Purba Bardhaman জেলায় বিশেষত রায়না ও খণ্ডঘোষ এলাকায় ব্যাপক হারে গোবিন্দভোগ-সহ বিভিন্ন সুগন্ধি ধানের চাষ হয়। উৎপাদিত ধান প্রক্রিয়াকরণের জন্য এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক আধুনিক রাইস মিল। মিল মালিকদের দাবি, এমনিতেই বিশ্ববাজারে গোবিন্দভোগ চালের চাহিদা যথেষ্ট। প্রতিবছর প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন গোবিন্দভোগ চাল বিদেশে রপ্তানি হয়। নতুন এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে চাহিদা আরও বাড়বে এবং রপ্তানির পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে বলেই তাঁদের আশাবাদ।
অন্যদিকে দক্ষিণ দামোদর এলাকার কৃষকরাও এই স্বীকৃতিতে অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁদের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই বাজারে গোবিন্দভোগের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ন্যায্য মূল্য মিলছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর চাহিদা আরও বাড়লে চাষে আগ্রহ বাড়বে এবং লাভজনক ফসল হিসেবে গোবিন্দভোগের চাষের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
সব মিলিয়ে, বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি চালের এই আন্তর্জাতিক মর্যাদা শুধু কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায়নি, রাজ্যের কৃষি অর্থনীতির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ তথা দক্ষিণ দামোদরবাসী শ্রী বিশ্বনাথ রায় জানান, মা-মাটি-মানুষের সরকার বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিভিন্ন সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলার ঐতিহ্য ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিতে মুখ্যমন্ত্রী সর্বক্ষেত্রেই অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে চলেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, ইউনাইটেড নেশনস-এর পক্ষ থেকে বাংলার ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পকে প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি শুধু একটি প্রকল্পের সাফল্য নয়, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রতিফলন বলেই মত তাঁর।
একই সঙ্গে খণ্ডঘোষ, রায়না ও জামালপুর ব্লক জুড়ে উৎপন্ন সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চাল আজ বিশ্বজোড়া সমাদর পাচ্ছে বলেও তিনি গর্ব প্রকাশ করেন। দক্ষিণ দামোদর এলাকার মানুষ হিসেবে তাঁরা গর্বিত যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এই ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দভোগ চালকেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরেছেন।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের স্বীকৃতি অর্জনে এই অগ্রযাত্রা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ।
খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি ও সেচ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিদ্যুৎকান্তি মল্লিক বলেন, গোবিন্দভোগ চাল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর কথায়, এটি খণ্ডঘোষ তথা সমগ্র অঞ্চলের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ এই সাফল্য এসেছে।
তিনি জানান, অতীতে কোনও সরকার গোবিন্দভোগ চালকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই গোবিন্দভোগ চাল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎকান্তি মল্লিক আরও বলেন, গোবিন্দভোগ চালের যে আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে, তা এখন সারা দেশ জানতে পারছে। এতে রাজ্যের কৃষকদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তিনি নিজেও একজন চাষি হিসেবে গোবিন্দভোগ ধান চাষ করেন এবং এই স্বীকৃতি পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে বলে জানান।








