২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে তৎপরতা এখন চরমে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-কে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করল ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের দাবি, এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং “বাংলায় প্রকৃত পরিবর্তনের ডাক”।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি রাজ্যের পাঁচটি স্থান থেকে একযোগে যাত্রা শুরু করে। ২ মার্চ আরও চারটি জায়গা থেকে কর্মসূচি শুরু হবে । মোট নয়টি সাংগঠনিক বিভাগ থেকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ সূচনা হবে বলে দলীয় সূত্রের খবর । বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এই যাত্রা ৩৮টি সাংগঠনিক জেলা এবং ২৩০টিরও বেশি বিধানসভা কেন্দ্র স্পর্শ করবে।
দলের লক্ষ্য, অন্তত ১ কোটি মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন। কর্মসূচির আওতায় ৬৩টি বড় সমাবেশ ও ২৮১টি ছোট সভার আয়োজনের কথা জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিও এই কর্মসূচিকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।
বিজেপির এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম। তিনি বলেন,
“যারা সারা বছর মানুষের পাশে দেখা যায় না, ভোটের আগে তারাই বড় বড় কথা বলে জনসংযোগের নাম করে রাস্তায় নামছে। সারা বছর গোয়ালে লুকিয়ে থাকে, আর ভোট এলেই হঠাৎ মানুষের কথা মনে পড়ে! এটা জনসংযোগ নয়, এটা রাজনৈতিক নাটক”।
তিনি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ সব বোঝেন। বিপদে-আপদে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিংবা মানুষের ব্যক্তিগত সংকটে—যিনি সবার আগে ছুটে যান, তিনি আর কেউ নন, বাংলার মা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উন্নয়ন, সামাজিক প্রকল্প, কৃষক-শ্রমিক-মহিলাদের স্বার্থরক্ষায় রাজ্য সরকার নিরলস কাজ করে চলেছে। তাই ভোটের আগে ‘লাফালাফি’ করে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না”।
অপার্থিবের দাবি, বিজেপির এই কর্মসূচি মূলত রাজনৈতিক জমি শক্ত করার মরিয়া চেষ্টা। তাঁর কথায়, “পরিবর্তনের নামে যারা বিভাজনের রাজনীতি করে, তাদের বাংলার মানুষ আর বিশ্বাস করে না”।
নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত রাজনৈতিক ময়দান ২০২৬-কে পাখির চোখ করে রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে বাকযুদ্ধ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। একদিকে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’, অন্যদিকে শাসকদলের পাল্টা প্রচার ও কটাক্ষ—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক দিন এই তরজা আরও তীব্র হবে।







