বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বর্ধমান টাউন হল সাক্ষী থাকল এক বর্ণাঢ্য শিক্ষাবান্ধব আয়োজনের। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘সবার শিক্ষা সবার সরস্বতী’ শীর্ষক মেধা অন্বেষণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সরস্বতী পুজোর আয়োজন, সৃজনশীলতা, নকশা ও সামাজিক বার্তার নিরিখে পূর্ব বর্ধমান জেলার একাধিক কলেজকে সম্মানিত করা হয় এদিনের মঞ্চ থেকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, তৃণমূল কংগ্রেস-এর পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি ও বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস-সহ জেলার ছাত্রনেতৃত্ব ও বিশিষ্টজনেরা।
এবারের প্রতিযোগিতায় সেরা প্রতিমার পুরস্কার জিতে নেয় আচার্য সুকুমার সেন মহাবিদ্যালয়। সেরা আলপনার স্বীকৃতি পায় গলসি মহাবিদ্যালয়। সেরা সাজসজ্জায় পুরস্কৃত হয় কাটোয়া কলেজ, যা পরে ‘সেরার সেরা পুজো’র সম্মানও অর্জন করে। সেরা ভাবনার পুরস্কার যায় বিবেকানন্দ মহাবিদ্যালয়-এর ঝুলিতে। সার্বিকভাবে সেরা পরিবেশের স্বীকৃতি পায় ড. ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি মহাবিদ্যালয়। দৃশ্যমান প্রচার ও নকশাগত উৎকর্ষে শ্রেষ্ঠ সম্মান অর্জন করে মেমারি কলেজ।
সেরা অভিনব পুজোর পুরস্কার পায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়-এর আইন বিভাগ। বিচারকমণ্ডলীর পছন্দে সেরা তকমা পায় এম ইউসি উইমেন্স কলেজ। সামগ্রিকভাবে সেরা ব্যবস্থাপনার পুরস্কার অর্জন করে গুসকরা মহাবিদ্যালয় এবং পৃথকভাবে একই বিভাগে সম্মানিত হয় বর্ধমান ডেন্টাল কলেজ। সহযোগিতার পুরস্কার পায় ইউ আই টি কলেজ। সেরা সম্পাদনা ও উপস্থাপনার স্বীকৃতি যায় পূর্বস্থলী কলেজ-এর ঝুলিতে। অন্যদিকে সেরা পুজো মণ্ডপের সম্মান অর্জন করে এম বি সি ইন্সটিটিউট।
“গতানুগতিক প্রতিযোগিতা নয়, সৃজনশীলতার মহাযুদ্ধ” তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ বলেন, “এবারের ‘বাগদেবী সম্মান ২০২৬’ কেবল একটি গতানুগতিক প্রতিযোগিতা নয়, এটি ছিল সৃজনশীলতার এক মহাযুদ্ধ। পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রতিটি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা যে শৈল্পিক ভাবনা, সামাজিক বার্তা ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা তুলে ধরেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিচারকমণ্ডলী প্রতিটি আয়োজন খুঁটিয়ে মূল্যায়ন করেছেন”।
রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্যে ছাত্রসমাজকে শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সরস্বতী পুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি শিক্ষার আরাধনা। ছাত্রছাত্রীদের এই সৃজনশীল অংশগ্রহণ আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলবে”। শিক্ষা ও সংস্কৃতির মিলনমঞ্চ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। টাউন হল প্রাঙ্গণে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। পুরস্কারপ্রাপ্ত কলেজগুলির প্রতিনিধিরা মঞ্চে উঠে সম্মান গ্রহণ করেন, করতালিতে মুখরিত হয় প্রেক্ষাগৃহ।
‘সবার শিক্ষা সবার সরস্বতী’ শীর্ষক এই উদ্যোগ শুধু পুরস্কার প্রদানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ছাত্রসমাজের মধ্যে সৃজনশীলতা, সংগঠন দক্ষতা ও সামাজিক বার্তার এক ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে বলেই মত শিক্ষামহলের একাংশের। ভোটের আবহে ছাত্র সংগঠনের এই বৃহৎ সমাবেশ রাজনৈতিক তাৎপর্যও বহন করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে আয়োজকদের দাবি, মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার প্রসার ও ছাত্রসমাজের সৃজনশীল প্রতিভাকে সম্মান জানানো।
বর্ধমান টাউন হলের মঞ্চে তাই এদিন একসঙ্গে ধ্বনিত হল শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সংগঠনের সুর—‘সবার শিক্ষা, সবার সরস্বতী’।








