পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া এলাকার যুবক অনুপম আজ এলাকার পরিচিত নাম। উন্নত মানের গোলাপ চাষ করে তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন বহু কৃষককেও।ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে ফুলচাষের জমিতে কাজ করতেন অনুপম।
পড়াশোনার পাশাপাশি ফুলচাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। শ্যামসুন্দরপুর পাঠনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর পাঁশকুড়া বনমালী কলেজ থেকে স্নাতক হন তিনি। পরবর্তীতে কম্পিউটার ডিপ্লোমা কোর্স করে কলকাতায় একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় চাকরিও পান।
তবে বাবার অসুস্থতার কারণে সেই চাকরি ছেড়ে ফিরে আসতে হয় গ্রামে। প্রায় ৪ বিঘা জমিতে গোলাপ চাষের দায়িত্ব নিজে হাতে তুলে নেন অনুপম। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ, রোগ প্রতিরোধ এবং উন্নত পরিচর্যার মাধ্যমে অল্প সময়েই সাফল্য পান তিনি।বর্তমানে তাঁর গোলাপ বাগান থেকেই প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গায় ফুল সরবরাহ করা হয়।
শুধু তাই নয়, এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করে তুলছেন তিনি। ২০১১ সালে ‘কৃষকবন্ধু’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলে কৃষি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন শুরু করেন অনুপম।২০১১ সালেই তাঁর কাজের স্বীকৃতি দেয় জাতীয় বনসম্পদ উন্নয়ন সংস্থা ও ভারত সরকারের কৃষি অনুশীলন পরিদপ্তর।
পরবর্তীতে কংসাবতী নদীর তীরে ‘রোজ ফেস্টিভ্যাল’-এর আয়োজন করে আরও পরিচিতি পান তিনি।ফুলচাষের পাশাপাশি মৌ পালনেও যুক্ত হয়েছেন অনুপম। সরকারি অফিসে কাজের অভিজ্ঞতা ও কৃষিকাজের মেলবন্ধনে আজ তিনি পাঁশকুড়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।নিজের পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও পরিকল্পনার জোরে অনুপম প্রমাণ করে দিয়েছেন,সঠিক উদ্যোগ থাকলে কৃষিকাজই হতে পারে সাফল্যের সোপান।







