উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, দ:২৪ পরগনা : আবারো সুন্দরবনে বাঘের আক্রমনে মৃত এক মৎস্যজীবি।মৃত্যু মিছিল বন্ধ হচ্ছে না সুন্দরবনে। আবারও বাঘের আক্রমণ নিহত এক মৎস্যজীবি গোপাল ঢালী ঝড়খালি বিধানপল্লির বাসিন্দা গত শনিবার তিন জন সঙ্গী নিয়ে মাছ কাঁকড়া ধরতে যায় এবং সোমবার চামটা জঙ্গলের কাছে সন্ধ্যা ৬ টায় বাঘের আক্রমণের শিকার হয়।
সঙ্গীরা কোন ক্রমে চিল্লাচিল্লি করে গোপাল ঢালীকে বাঘের মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।ইতিমধ্যে মঙ্গলবার ঝড়খালি থানা থেকে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।এব্যাপারে বন দফতর থেকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।আর দীর্ঘদিন বাঘের কামড়ে মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এপিডিআর নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন।
আর সেই সংগঠনের দক্ষিন ২৪ পরগনার জেলার সহ সম্পাদক মিঠুন মন্ডল মঙ্গলবার বলেন, ২০২৬ সালে এই নিয়ে এখনো পর্যন্ত ৬ জন বাঘের আক্রমণে আক্রান্ত হলো। তিন জন মৃত বাকি তিন জন আহত।তবে এদের পরিবার এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইনি। সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা মারা গেলে বনদপ্তর এবং বন মন্ত্রীর কোনো বিবৃতি শুনতে পাই না।
অথচ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় তিনজন বিচারক মহাশয় রায় দিয়েছেন ভারতবর্ষে সমস্ত জায়গায় বাঘের আক্রমণ নিহত হলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি পূরন দিতে হবে অথচ ঐ রায়ে কোর এরিয়াতে ছবিতোলা, পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধর কথা বলা হয়েছে।
নদপ্তর সেগুলো কার্যকর করতে তৎপর হলেও বাঘের আক্রমণ নিহত ও নতুন সাদা বালি তুলে নেওয়া বিষয়ে কোন তৎপর হচ্ছে না।সোমবার যে মৎস্যজীবি গোপাল ঢালী মারা গেছেন ওনার স্ত্রী ছোট্ট ছেলে, একটি মেয়ে আছে এবং উনি পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তাই আমাদের দাবি – গোপাল ঢালীর পরিবারের হাতে ১৫ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা রাজ্য সরকার কে তুলে দিতে হবে।
পরিবারের এক জনের সরকারি চাকরি দিতে হবে।বাচ্চা দের পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব ও কোলকাতায় যাওয়া ময়নাতদন্তের জন্য গাড়িভাড়া বিনামূল্যে দিতে হবে।নাহলে আমাদের আন্দোলন ও জোট বদ্ধ প্রতিবাদ হবে।








