শান্তিপুর: মৃত্যু মানেই কি চিরবিচ্ছেদ? মৃত্যু মানেই কি শুধু কান্নার নোনা জল? শান্তিপুরের বাগআঁচড়া অঞ্চলের ছোট কুলিয়া গ্রাম আজ এক অন্যরকম ইতিহাসের সাক্ষী থাকল। ১০৬ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে চিরবিদায় নিলেন এক বৃদ্ধ।
কিন্তু তাঁর বিদায়বেলা কোনো বিষণ্ণতা নয়, বরং হয়ে উঠল এক বর্ণাঢ্য উৎসব। ৩৫ জন নাতি-নাতনি এবং প্রায় ২০০ জন গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে নেচে-গেয়ে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে দাদুকে ‘স্বর্গলোকে’ পৌঁছে দিলেন পরিজনেরা।পরিবার সূত্রে খবর, ওই বৃদ্ধ নিজেই জীবদ্দশায় ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন যেন তাঁর শেষ যাত্রা কোনোভাবেই শোকাতুর না হয়।
তিনি চেয়েছিলেন, দীর্ঘ এক শতাব্দীর এই পথচলা যেন শেষ হয় আনন্দের মধ্য দিয়ে। দাদুর সেই শেষ ইচ্ছাকে মান্যতা দিতেই কোমর বেঁধে নামেন পরিবারের ৩৫ জন নাতি-নাতনি। ফুলের সাজে সজ্জিত খাটিয়ায় শুয়ে, খোল-করতালের ধ্বনিতে মাতোয়ারা হয়ে বৃদ্ধ চললেন গঙ্গার ঘাটে। শ্মশান যাত্রীদের চোখে জল ছিল ঠিকই, কিন্তু মুখে ছিল দাদুর দীর্ঘায়ু জীবনের জয়গান।
আজকের দিনে যখন খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায়— সম্পত্তির লোভে সন্তান বাবাকে ঘরছাড়া করছে, কিংবা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিথর দেহ পড়ে আছে ফ্ল্যাটে আর সন্তান বিদেশে ব্যস্ত; তখন শান্তিপুরের এই ঘটনাটি সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়ে গেল।ছোট কুলিয়া গ্রামের এই ঘটনাটি বুঝিয়ে দিল, আয়ু ফুরিয়ে গেলেও ভালোবাসা ফুরায় না।
তার ওপর ধর্মীয় বিশ্বস্ত রয়েছে, হিন্দু সনাতন রীতি অনুযায়ী স্বর্গলোকে যাত্রা সকলেরই চিরকাঙ্ক্ষিত তাই দুঃখ নয় আত্মা বিলীন হোক পরমাত্মার সাথে। যেখানে আধুনিক সমাজ মানসিক দূরত্ব আর একাকীত্বের ব্যাধিতে আক্রান্ত, সেখানে এই ১০৬ বছরের বৃদ্ধের ‘মহাপ্রয়াণ’ আমাদের শেখাল কীভাবে জীবনকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মর্যাদা দিতে হয়।








