প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান, ১৬ জানুয়ারি: পুকুরের মাটি কেটে তোলার সময় যন্ত্রের ডগায় উঠে এলো প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি।সেই মূর্তিঘিরে তোলপাড় পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের রায়নার পলাসন গ্রামের সাঁইপাড়ার ।খবর পেয়ে রায়না থানার পুলিশ গ্রামে পৌছে মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।শুক্রবার রায়না থাকা থেকে মূর্তিটি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগ্রহশালায় নিয়ে যান সেখনকার কর্মীরা।প্রাচীন মূর্তিটি এখন থেকে সেখানেই শোভা পাবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, “রায়নার পলাসন গ্রামের সাঁইপাড়ার বাসাপুকুরটি মজে গিয়েছিল। তাই পুকুরটি সংস্কারে উদ্যোগ নেন পুকুরের মালিক।সেই মতো দিন কয়েক আগে যন্ত্র দিয়ে মজা পুকুর থেকে মাটি ও পাঁক তোলার কাজ শুর হয়।তখনই পুকুরটি থেকে কষ্টি পথরের প্রাচীন একটি বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার হয়। মূর্তিটি নেওয়া নিয়ে পুকুর মালিকের সঙ্গে স্থানীয়দের দ্বন্দ্ব তৈরি হলে পুলিশ মূর্তিটি উদ্ধার করে থানার নিয়ে এনে রাখে।
মূর্তিটি প্রসঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কিউরেটর তথা বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালার অধিকর্তা রঙ্গনকান্তি জানা এদিন বলেন, মূর্তিটি একাদশ-দ্বাদশ শতকের সেন আমলের কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। মূর্তিটিতে বিষ্ণুদেবের নিচের ডান হাতে পদ্ম ও উপরের ডান হাতে চক্র রয়েছে।আর উপরের বাঁ হাতে গদা এবং নিচের বাঁ হাতে শঙ্খ রয়েছে। তাঁর দু’দিকে রয়েছে লক্ষ্মী ও সরস্বতী” ।রঙ্গন জানার কথা অনুযায়ী,বহুকাল পূর্বে রায়নার একটা বিস্তীর্ণ অংশে বিষ্ণুমূর্তি পূজিত হতো।এমন ধরণের প্রাচীন মূর্তি এর আগেও রায়না থেকে অনেকগুলি পাওয়া গিয়েছে।”
রায়না থানায় মূর্তিটি নিতে যাওয়া বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামের কর্মী শ্যামসুন্দর বেরা বলেন, “গত বছরও একই রকম প্রাচীন দু’টি মূর্তি রায়না থানা এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছিল। ওই মূর্তি দু’টিও বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় রয়েছে।” শ্যামসুন্দর বাবু মূর্তিটি
হাতে পেয়ে দেখতে পান,মর্তিটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মূর্তিটির বাঁদিকের একাংশ ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও মূর্তিটির নাক ও বাঁ চোখেরও ক্ষতি হয়েছে। মাটি কাটা যন্ত্রের আঘাতেই সম্ভবত মূর্তিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁর ধারণা। মূর্তিটি সম্পূর্ণ খতিয়ে দেখে শ্যামসুন্দর বেরা জানান,“মূর্তিটি কষ্টি পাথরের। প্রায় হাজার বছরের প্রাচীন এই মূর্তিটির উচ্চতা ৩৩ ইঞ্চি,আর প্রস্থ ১৩ ইঞ্চি।ইতিহাস ও পুরাতত্ত্ববিদদের মতে প্রাচীন এই মূর্তিটি পাল-সেন যুগের ধর্মীয় ও শিল্প ঐতিহ্যে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে
।








