প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় ( বর্ধমান ) :- সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটলো।শেষপর্যন্ত শনিবার বিজেপিতে যোগদান করলেন বাম,
তৃণমূল ও কংগ্রেসের শিবিরের একাধীক বিধায়ক ,নেতা ও সাংসদ।রাজ্যের হেভিওয়েট
নেতা শুভেন্দু অধিকারির হাতধরে এদিন মেদিনীপুরের সভায় বিজেপিতে যোগদান কারীদের মধ্যে রয়েছেন বর্ধমান পূর্বের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল ,কালনার তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু ও মন্তেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক শৈকত পাঁজা ।এছাড়াও জেলার গুসকরা পুরসভার বিদায়ী কাউন্সিলার নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ও এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন। দলত্যাগী এই সব বিধায়ক ও সাংসদের বিজেপিতে যাওয়াটাকে যদিও ‘পাপিদের ’ বিদায় বলে দাবি করে বর্ধমানের তৃণমূল কর্মীরা সবুজ আবির মেখে মুষ্টি মুখ করলেন ।
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ঢাক এখনও বাজেনি ।তার আগেই বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা ।আর দামামা বাজার অনেক আগে থেকেই বেসুরো গাইতে শুরু করেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেসুরো গাইতে শুরে করেন তৃণমূলেরই একঝাক বিধায়ক ,সাংসদ ,
নেতা ও মন্ত্রী।তাঁদের মানভঞ্জন করতে বলিষ্ট
তৃণমূল নেতাদের আশরে নামানো হয় । কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি । সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডলের কাঁকসার বাড়িতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সারেন শুভেন্দু । সেই বৈঠকে সুনীল মণ্ডল ছাড়াও আসানসোলের দাপুটে তৃণমূল নেতা জীতেন্দ্র তেওয়ারী ,বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু ,পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদ সদস্য নুরুল হাসান , গুসকরা পৌরসভার বিদায়ী কাউন্সিলার নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যয় প্রমুখের হাজির থাকার ছবি ওইদিন ক্যামেরায় ধরা পড়ে । এদিন নুরুল হাসান ছাড়া জেলার বেসুরো গাওয়া দুই বিধায়ক বিশ্বজিৎ কণ্ডু ,শৈকত পাঁজা ও সাংসদ সুনীল মণ্ডল আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভেন্দু অধিকারির হাতধরে বিজেপিতে যোগদান করলেন ।
বিশ্বজিৎ কুণ্ডকে এদিন সকালে ফোন করা হলে তিনি বলেন ,“তৃণমূল ছেড়ে অন্য কোথাও যাবনা বলেই ঠিক করেছিলাম।কিন্ত শুক্রবারের ঘটনার পর তিনি বিজেপিতে যোগদেবার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ।“ কি সেই ঘটনা ? এর উত্তরে বিশ্বজিৎ বাবু বলেন , “শুক্রবার আমি সৌগত রায়কে একবারের জন্যও ফোন করিনি । অথচ উনি বললেন আমি নাকি ওনাকে ফোন করেছি ।সৌগত বাবু সেই কথা আবার মিডিয়ায় প্রচারও করেদিলেন । একজন প্রবীন শিক্ষক ,নেতা ও তৃণমূল কংগ্রের দলের এই মিথ্যাচার মেনে নেওয়া যায়না । তাই শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে সকালেই মেদিনীপুরের সভার দিকে রওনা দিয়েছি। ”
আর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগদানের জন্য শুক্রবারই মেদিনীপুর পৌছে গিয়েছিলেন ।দুদিন আগেই যদিও অনুব্রত মণ্ডল কে ইঙ্গিত করে নিত্যানন্দ বাবু বলেছিলেন , “১৩ দিন তাঁকে জেল খাটানোর ঘটনায় জড়িতদের বদলা নিতেই তিনি শুভেন্দুর সাথেই বিজেপিতে যোগ দেবেন । ”
২০১৯ লোকসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন পরেশচন্দ্র দাস । তৃণমূল প্রার্থী সুনীল মণ্ডলের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন ।কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাক্তন আমলা (আইসিএএস )পরেশচন্দ্র দাস
এদিন বলেন ,“ ছোট ঘাসফুল এখন শুকুয়ে যাচ্ছে । তাই ঘাসফুলের সবাই এখন বড়ফুল পদ্ম শিবিরে যোগদান করছেন ।খুব ভালকথা শুভবুদ্ধি জাগ্রত হওয়ায় ওনারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন । তবে একটা কথা শুনিয়ে দিতে চাই , তৃণমূলে থাকা কালে যারা দুস্কর্মে জড়িত ছিলেন সেইসব ত্যাগ করে চরিত্র সংশোধন করে বিজেপিতে আসতে হবে । পুরানো বিজেপি নেতা কর্মীদের দূরে সরিয়ে দিয়ে এইসব নবাগতরা সামনের চেয়ারে বসবেন সেটাও হবে না । ”পরেশ দাস এদিন বলেন , “শুধুমাত্র রায়না বিধানসভা থেকে সুনীল মণ্ডল ৫৪ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিলেন । তৃণমূলের গুণ্ডারা রিগিং করে এইভাবে মার্জিন বাড়িয়েছিল । তা নাহলে ২০১৯ সালেই বর্ধমান পূর্ব আসনে পদ্ম ফুটতো । ”পরেশবাবু এদিন দাবি করেন , ২০২১ বিধানসভা ভোটে বিজেপি এই রাজ্যে দু’শোর বেশী আসন পাবে । আর রায়নার বিজেপি প্রার্থী রেকর্ড ভোটে জয়ী হবেন ।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা পরেশচন্দ্র দাস এদিন রায়নার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের দিকে যখন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন সেই সময়ে কালনার তৃণমূল নেতা কর্মীরা মিষ্টিমুখ করানো ও আবির খেলা শুরু করেদেন । এর কারণ হিসাবে কালনা ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রণব রায় বলেন , “শনিবারের বারবেলায় দল ‘পাপি’ মুক্ত হল । সেই কারণে তারা উল্লশিত । বিশ্বজিৎ কুণ্ডু সহ যারা এদিন বিজেপিতে গেলেন তারা দল বিরোধী কাজে যুক্ত ছিল । তৃণমূল কংগ্রেস দল যে তাঁদের আর প্রার্থী করবে না সেটা বুঝতে পেরেই ওই ‘পাপিরা ’ বিজেপিতে যোগদান করেছে । ”বিশ্বজিৎ কুণ্ডুর কুশপুতুলও এদিন দাহ করেন কালনার তৃণমূল যুবকর্মীরা । জেলা তৃণমূলের সভাপতি স্বপন দেবনাথ দলত্যাগী সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বিজেপিতে যোগদানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চান নি । স্বপন বাবু শুধু বলেন ,“উনি যা বলছেন বলুন । প্রতিক্রিয়া দিয়ে ওকে গুরুত্ব দিতে চাইনা । ”
krishna Saha
আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি