উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : ফের সিআইডির তলব ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাসকে।আগামী সোমবার দুপুর ১২টায় ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের উপর হামলা, বোমাবাজি এবং অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের সূত্রেই তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে,এই মামলায় এর আগে ও পরেশরাম দাসকে তিনবার তলব করা হয়েছিল। তবে কোনওবারই তিনি তদন্ত কারীদের সামনে হাজির হননি বলে অভিযোগ। পরিবর্তে আইনজীবীর মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছিলেন তিনি। শনিবার তাঁকে ফের, অর্থাৎ চতুর্থবারের জন্য সমন পাঠানো হয়েছে।

২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যানিং সহ বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পঞ্চায়েতে নিজেদের পছন্দের সদস্য ও প্রধানকে বসানোর অভিযোগও উঠেছিল পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক।এরই মধ্যে বিধায়কের বিরুদ্ধে এক মহিলার করা ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়। অভিযোগকারী মহিলার দাবি, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে পঞ্চায়েত সদস্যের টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরেশরাম দাস তাঁর কাছে চার লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। ওই মহিলা আরও অভিযোগ করেন, টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করার পর তাঁকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল।
অভিযোগকারিণীর দাবি,ঘটনার পর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হলেও তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তখন কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। প্রায় তিন বছর পর ফের পুলিশের কাছে যান তিনি। ক্যানিংয়ের এসডিপিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা।সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যানিং থানায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে।পরবর্তী সময়ে মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডির হাতে যায়। তদন্তের অংশ হিসেবেই একাধিকবার বিধায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে আগের তিনটি সমনে তিনি হাজিরা দেননি। এবার ২১ সেপ্টেম্বর, সোমবার দুপুর ১২টায় ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে নির্ধারিত দিনে বিধায়ক হাজিরা দেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি ফের হাজিরা এড়িয়ে গেলে তদন্তকারীরা পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ করেন, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে










