বর্ধমান, মঙ্গলবার: পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার বর্ধমান ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে স্কুল বাসগুলিকে নিয়ে বিশেষ সচেতনতামূলক অভিযান চালানো হয়। বর্ধমানের কার্জন গেট এলাকায় ট্রাফিক ওসি চিন্ময় ব্যানার্জীর নেতৃত্বে এই অভিযানে একদিকে যেমন স্কুল বাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়, তেমনি চালকদের সঙ্গে মানবিক আচরণের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার বার্তাও তুলে ধরা হয়।

অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি। তাই বিভিন্ন স্কুল বাস থামিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাফিক পুলিশ আধিকারিকরা। বাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফিটনেস, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে শিশুদের বহনকারী যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনওরকম গাফিলতি যাতে না থাকে, সেই বিষয়েই জোর দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালীন একটি স্কুল বাসে বেআইনি এয়ার হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই সেটি খুলে নেওয়া হয়। একই বাসের চালককে সিট বেল্ট ছাড়া গাড়ি চালাতে দেখা গেলে তাঁকে জরিমানা না করে প্রথমে সচেতন করা হয়। ট্রাফিক ওসি চিন্ময় ব্যানার্জী চালককে সিট বেল্ট ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝান এবং ভবিষ্যতে সব নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানান। সচেতনতার বার্তা আরও ইতিবাচকভাবে পৌঁছে দিতে শেষে চালকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
স্কুল বাস চালক শেখ নিজামুদ্দিন বলেন, “ট্রাফিক পুলিশ আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন করেছেন। গাড়ির কাগজপত্রে যদি কোনও সমস্যা বা ত্রুটি থাকে, সেগুলি দ্রুত ঠিকঠাক করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি নিরাপত্তার সব নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর কথাও বলেছেন”। ট্রাফিক পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপস্থিত অনেকেই। তাঁদের মতে, শুধু জরিমানা নয়, সচেতনতার মাধ্যমে নিয়ম মানতে উদ্বুদ্ধ করা হলে তার ইতিবাচক প্রভাব আরও বেশি পড়ে।
বিশেষ করে শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে স্কুল বাসের নিরাপত্তা নিয়ে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে বর্ধমান ট্রাফিক পুলিশের এই বার্তা স্পষ্ট—নিয়ম মেনে চলাই দুর্ঘটনা রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। আর সেই লক্ষ্যেই শাস্তির আগে সচেতনতার পথকেই বেছে নিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।









