উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর:- বাইশহাটা পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগে এসইউসিআইএর গণ ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন।একসময় জয়নগর দু নং ব্লকের কুলতলি বিধানসভার বাইশহাটা পঞ্চায়েত এলাকা এস ইউ সি আই এর দূর্গ ছিলো।কিন্তু তৃনমূল কংগ্রেস রাজ্যে আসার পর তা তৃনমূলের দখলে চলে যায়।আর তখন থেকে আস্তে আস্তে দূর্নীতির আখড়া হয়ে পড়ে এই পঞ্চায়েত।তৃনমূলকে সরিয়ে পালা বদলে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে তৃনমূল কংগ্রেসের দূর্নীতি সামনে চলে আসছে।আর এখানেও সেই দূর্নীতিকে সামনে এনে লড়াইয়ে নেমেছে এস ইউ সি আই।

তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বাইশহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধানের মদতে নজিরবিহীন চুরি,দুর্নীতি, কাটমানি, তোলাবাজি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে বুধবার এসইউসি আই এর বাইশহাটা লোকাল কমিটির উদ্যোগে এক গণ ডেপুটেশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।এদিন এই ডেপুটেশনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন এসইউসিআইএর বারুইপুর জেলা সাংগঠনিক কমিটির সম্পাদক নিরঞ্জন নস্কর।তিনি এদিন বলেন, চুরি-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত তৃণমূলের নেতারা আজ মানুষের রোষের ভয়ে গর্তে লুকিয়ে পড়েছেন।অথচক্ষমতায় থাকাকালীন তারা বাইশহাটায়গুন্ডামি ও দখলদারির রাজত্ব কায়েম করে ছিলেন। বর্তমান পঞ্চায়েত জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বুথ স্তর থেকে ঐক্যবদ্ধগণ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতিরও সমালোচনা করেন।
পাশাপাশি ট্রাইবুনালে নথিভুক্ত সমস্ত ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, স্মার্ট মিটার চালুর বিরোধিতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন।এদিন তথ্যের অধিকার আইন অনুযায়ী পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, পথশ্রী প্রকল্পে কোথায় কী কাজ হয়েছে ও কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, দিদিকে বলো প্রকল্পে আবাসের ঘর প্রাপকদের তালিকা-সহ পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রথমে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। পরে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ ও পঞ্চায়েত অফিস ঘেরাওয়ের মুখে কর্তৃপক্ষ আবেদন গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।এরপর এসইউসিআই এর বাইশহাটা লোকাল কমিটির অন্যতম সংগঠক আমির আলি ঘরামী, প্রাক্তন প্রধান আব্দুর রসিদ ঘরামী, পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা তাহের আলী মোল্লা-সহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান মানসুরা গাজীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন।
বৈঠকে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নমূলক কাজের অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ সংবলিত স্মারক লিপি জমা দেওয়া হয়।সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আলোচনায় উত্থাপিত দাবিগুলি নীতিগত ভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় চাওয়া তথ্য ১৫ দিনের মধ্যে সরবরাহ করা হবে বলে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে।ডেপুটেশন গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানালেন বাইশহাটা পঞ্চায়েত প্রধান মানসুরা গাজী।











