২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে আসছে পূর্ব বর্ধমানের গুরুত্বপূর্ণ আসন মেমারি বিধানসভা কেন্দ্র। গত এক দশকের নির্বাচনী পরিসংখ্যান, ভোটের হার ও দলীয় সংগঠনের ভিত্তিতে এই মুহূর্তে শাসক দল এগিয়ে থাকলেও বিরোধীরাও ধীরে ধীরে জমি শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
২০১১: অল্প ব্যবধানে তৃণমূলের সূচনা ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে All India Trinamool Congress প্রার্থী আবুল হাশেম মণ্ডল পান ৮৯,০৮৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী Communist Party of India (Marxist)-এর দেবাশীষ ঘোষ পান ৮৫,০৮৩ ভোট। জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩,১৭৮ ভোট। অর্থাৎ শুরু থেকেই কেন্দ্রটি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
২০২১: ব্যবধান বাড়াল তৃণমূল ২০২১ সালে মোট ভোটার ছিলেন প্রায় ২,৩৩,২৬৬ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে প্রায় ২,০৩,৭৯৫ (প্রায় ৮৭% ভোটদান)।
তৃণমূল প্রার্থী মধুসূদন ভট্টাচার্য পান ৯৪,৪০৬ ভোট। সিপিআই(এম) প্রার্থী দেবাশীষ ঘোষ পান প্রায় ৮৮ হাজার ভোট। জয়ের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬-৭ হাজারের কাছাকাছি।
Bharatiya Janata Party তৃতীয় স্থানে থাকলেও জয়ের লড়াইয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারেনি।
২০২৪ লোকসভা: অঞ্চলে তৃণমূলের বাড়তি সুবিধা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পূর্ব বর্ধমান কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী দেড় লক্ষের বেশি ভোটে জয়ী হন। এই ফল মেমারি সহ আশপাশের বিধানসভাগুলিতে শাসক দলের সংগঠন ও ভোটব্যাঙ্ক মজবুত থাকার ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমান সমীকরণ কী বলছে? গত তিন নির্বাচনে তৃণমূলের ধারাবাহিক জয়। ভোটদানের হার ৮৫-৮৮% এর মধ্যে, যা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় কেন্দ্রের ইঙ্গিত। বাম ভোটব্যাঙ্ক এখনও উল্লেখযোগ্য, তবে এককভাবে জয়ের মতো অবস্থানে নয়। বিজেপি সংগঠন বাড়ালেও এখনও দ্বিতীয় স্থানে স্থায়ীভাবে উঠে আসতে পারেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেমারি ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কেন্দ্র হলেও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে তৃণমূল কংগ্রেস কিছুটা এগিয়ে। তবে প্রার্থী নির্বাচন, স্থানীয় ইস্যু (চাকরি, কৃষি, রাস্তাঘাট, শিল্প) এবং নির্বাচনী জোট—এই সবকিছু মিলিয়েই ২০২৬-এর চূড়ান্ত সমীকরণ নির্ধারিত হবে। সার্বিকভাবে বলা যায়, পরিসংখ্যানের নিরিখে এই মুহূর্তে মেমারি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে থাকলেও লড়াই একেবারেই একপাক্ষিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থীর মুখ ফ্যাক্টর করে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।








