সোমবার থেকে শুরু হয়েছে জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা—মাধ্যমিক। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় একাধিক উদ্যোগ নিল প্রশাসন। পরীক্ষার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই বিশেষ হেল্পলাইন চালু করেছে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে গিয়ে কোনও সমস্যায় পড়লে পরীক্ষার্থীরা হেল্পলাইন নম্বর ৯৪৩২৬১০০৩৯-এ ফোন করে সহায়তা চাইতে পারবেন। প্রয়োজনে পুলিশকর্মীরা সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাহায্য করবেন। বাড়িতে অ্যাডমিট কার্ড ফেলে আসা, যানজটের কারণে দেরিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা—এই ধরনের পরিস্থিতিতেও মিলবে পুলিশি সহায়তা।
এছাড়াও, পরীক্ষার সময় কোনও পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোই এই বিশেষ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি রাজ্য সরকারও মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় পরিবহণ পরিষেবা জোরদার করেছে। কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে পরীক্ষার আট দিনের জন্য ১৫টি রুটে অন্তত ২০টি অতিরিক্ত বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের যাতায়াত নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে বলে প্রশাসনের দাবি।
চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২, ৩, ৬, ৭, ৯, ১০ ও ১২ ফেব্রুয়ারি। প্রতিদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ২টো পর্যন্ত। এই সময় শহরের রাস্তায় যানজটের সম্ভাবনা থাকায় পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থেই বিশেষ এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯,৭১,৩৪০ জন। এর মধ্যে ৪,২৬,৭৩৩ জন ছাত্র, ৫,৪৪,৬০৬ জন ছাত্রী এবং একজন তৃতীয় লিঙ্গের পরীক্ষার্থী রয়েছেন। রাজ্যজুড়ে মোট ২,৬৮২টি পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ মহম্মদ অপার্থিব ইসলাম বলেন, “মাধ্যমিক পরীক্ষা শুধু একটি পরীক্ষাই নয়, এটি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই সময়ে পরীক্ষার্থীদের মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি। রাজ্য সরকার, প্রশাসন ও পুলিশ যেভাবে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি সমস্ত পরীক্ষার্থীর কাছে অনুরোধ করব—ভয় নয়, আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় বসুক। সৎ পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল অবশ্যই মিলবে। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের প্রতিও আমার আন্তরিক শুভকামনা রইল”।
বিশিষ্ট শিক্ষক মহম্মদ অনাবিল ইসলাম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এই সময়ে পরীক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক স্থিরতা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে সাফল্য আসবেই। পরীক্ষাকে ভয় না পেয়ে স্বাভাবিক মনে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অভিভাবকদেরও উচিত সন্তানদের ওপর অযথা চাপ না দিয়ে পাশে থাকা। সকল পরীক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি”।







