আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

লোকশিক্ষার অঙ্গ যাত্রা: গ্রামবাংলার মঞ্চে আজও বেঁচে আবেগের অভিনয়।

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

লোকশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে যাত্রা। গ্রামবাংলার সংস্কৃতির শিকড়ে আজও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই শিল্পমাধ্যম। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও, গ্রামের চণ্ডীমণ্ডপে দিনের পর দিন যাত্রার রিহার্সাল এখনও চোখে পড়ে। দীর্ঘ অনুশীলনের পর গ্রামের ছেলেরাই নিজেদের উদ্যোগে মঞ্চস্থ করে যাত্রাপালা—যার প্রতিটি দৃশ্যে মিশে থাকে আবেগ, অনুভূতি আর বাস্তব জীবনের গল্প।

ঠিক তেমনই এক আবেগঘন দৃশ্য ধরা পড়ল পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না–২ ব্লকের কেউটা পশ্চিমপাড়ায়। গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে মঞ্চস্থ হল সামাজিক যাত্রাপালা “শ্মশানে কাঁদছে ভালোবাসা”। এই যাত্রাপালার রচয়িতা মহাদেব হালদার। নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন অম্লান চৌধুরী, যিনি একইসঙ্গে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন।

নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ওই গ্রামেরই তরুণ বাসিন্দা রাকেশ সাউ। দীর্ঘদিনের রিহার্সাল, পরিশ্রম আর আন্তরিক প্রচেষ্টার পর যখন মঞ্চে আলো জ্বলল—তখন যেন পুরো গ্রাম জেগে উঠল এক সাংস্কৃতিক উৎসবে। দর্শকদের চোখে জল, ঠোঁটে হাসি—সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছিল মঞ্চের সামনে। গ্রামবাসীদের মতে, এই ধরনের যাত্রাপালা শুধু বিনোদন নয়, সমাজকে সচেতন করারও এক শক্তিশালী মাধ্যম।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, “যাত্রা আমাদের ঐতিহ্য। এর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে জীবনের শিক্ষা, সমাজের বার্তা। আজকের প্রজন্ম যেভাবে এই ধারাকে ধরে রেখেছে, তা সত্যিই গর্বের।” শহুরে সংস্কৃতির আগ্রাসনের মাঝেও কেউটা পশ্চিমপাড়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে দিল—গ্রামবাংলার বুকে যাত্রা আজও জীবন্ত, আজও প্রাণবন্ত।

See also  বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান পেল খণ্ডঘোষ তাঁতিপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি